গরম ও বর্ষার সময়ে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হলে তা অনেকের কাছেই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাইরে বেরোনোর আগে পারফিউম বা ডিওড্রেন্ট ব্যবহার করলেও তার গন্ধ অনেক সময় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। অন্যদিকে, কৃত্রিম সুগন্ধি নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের সংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই অনেকেই এখন প্রাকৃতিক উপায়ে শরীর সতেজ ও সুগন্ধি রাখার বিকল্প খুঁজছেন।
বাড়িতেই থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান ব্যবহার করে সহজেই প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট তৈরি করা সম্ভব। এগুলি শরীরের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ সতেজ অনুভূতিও দিতে পারে।
গোলাপ জল

গোলাপ জল ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে এবং এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য দুর্গন্ধের জন্য দায়ী জীবাণুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। ১০০ মিলি গোলাপ জলের সঙ্গে সামান্য পরিষ্কার জল মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে রাখা যায়। স্নানের পর বগল, ঘাড় বা হাঁটুর পেছনে স্প্রে করলে সতেজ অনুভূতি দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকতে পারে।
ফিটকিরি
প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট হিসেবে বহুদিন ধরেই ফিটকিরির ব্যবহার চলে আসছে। এটি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকলাপ কমাতে সাহায্য করে। স্নানের পর ভেজা ফিটকিরি বগল, ঘাড় বা শরীরের ভাঁজে হালকা করে ঘষে শুকিয়ে নিতে পারেন। পরে আলাদা করে ধোয়ার প্রয়োজন হয় না।
চন্দন গুঁড়ো
চন্দনের শীতল সুগন্ধ অনেকেরই পছন্দ। এটি অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণেও সহায়ক। চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে বগল বা পায়ে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে ত্বক সতেজ থাকতে পারে।
নিমপাতার ব্যবহার
নিমের জীবাণুনাশক গুণ সুপরিচিত। এক মুঠো নিমপাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে স্নানের জলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে শরীর পরিষ্কার রাখতে এবং দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য মিলতে পারে।
প্রাকৃতিক বডি পাউডার
অ্যারারুট পাউডার, কর্নস্টার্চ ও সামান্য চন্দন গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে একটি প্রাকৃতিক বডি পাউডার তৈরি করা যায়। স্নানের পর শুকনো ত্বকে এটি ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঘাম শোষিত হয় এবং দীর্ঘক্ষণ শুষ্ক অনুভূতি বজায় থাকতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসেও প্রয়োজন সচেতনতা
শুধু বাহ্যিক পরিচর্যাই নয়, শরীরের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত রসুন, অ্যালকোহল, বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় অনেক সময় শরীরের গন্ধ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর পরিবর্তে পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এই সহজ পরিচর্যার অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে কৃত্রিম সুগন্ধির উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে গরম ও বর্ষার দিনেও সারাদিন সতেজ থাকা অনেকটাই সহজ হয়ে ওঠে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.