বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের জেল্লা কমে যাওয়া, বলিরেখা দেখা দেওয়া বা মুখের উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এই পরিবর্তন ধীর করতে অনেকেই দামি প্রসাধনী বা বিভিন্ন বিউটি ট্রিটমেন্টের উপর ভরসা করেন। তবে প্রাচীন আয়ুর্বেদের একটি সহজ অভ্যাস, অয়েল পুলিং, আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেকে মনে করেন, এটি শুধু মুখগহ্বরের যত্নেই নয়, সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতেও সহায়ক হতে পারে।
যদিও অয়েল পুলিংকে বয়স কমিয়ে দেওয়ার নিশ্চিত উপায় হিসেবে প্রমাণ করা যায়নি, তবু মুখের পরিচ্ছন্নতা ও মাড়ির স্বাস্থ্যের উন্নতির মাধ্যমে এটি পরোক্ষভাবে ত্বকের সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
অয়েল পুলিং কী?

অয়েল পুলিং হলো মুখের ভিতরে নির্দিষ্ট সময় ধরে তেল কুলকুচি করার একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি। সাধারণত নারকেল তেল বা তিলের তেল ব্যবহার করা হয়। এই অভ্যাসের উদ্দেশ্য হলো মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখা এবং মুখে থাকা ক্ষতিকর জীবাণুর পরিমাণ কমানো।
কীভাবে করবেন?
*সকালে ঘুম থেকে উঠে, কিছু খাওয়ার আগে এবং দাঁত মাজার আগেই এটি করা ভালো।
*মুখে প্রায় এক টেবিলচামচ নারকেল বা তিলের তেল নিন।
*১০ থেকে ২০ মিনিট ধীরে ধীরে মুখের ভিতরে তেল ঘুরিয়ে কুলকুচি করুন।
*তেল গিলে ফেলবেন না। নির্দিষ্ট সময় পরে তা ফেলে দিন।
*এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে দাঁত ব্রাশ করুন।
সম্ভাব্য উপকারিতা
১. মুখের জীবাণু কমাতে সাহায্য করতে পারে
তেল মুখের কিছু ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে সেগুলিকে অপসারণে সহায়তা করতে পারে। এতে মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হয়।
২. মাড়ি ও দাঁতের যত্নে সহায়ক
নিয়মিত অয়েল পুলিং করলে প্লাক জমা কমতে পারে এবং মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য মিলতে পারে। ফলে মুখের দুর্গন্ধও কিছুটা কমতে পারে।
৩. প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে নারকেল তেল ব্যবহার করলে মুখের প্রদাহ কমতে পারে। দীর্ঘদিনের প্রদাহ কমলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৪. ত্বকের উজ্জ্বলতায় পরোক্ষ প্রভাব
দীর্ঘ সময় মুখের পেশির নড়াচড়া হওয়ার ফলে রক্তসঞ্চালন কিছুটা বাড়তে পারে। যদিও এর ফলে ত্বক তরুণ হয়ে যায়—এমন প্রমাণ নেই, তবে অনেকেই মুখে সতেজ ভাব অনুভব করেন।
৫. অক্সিডেটিভ স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকে বার্ধক্যের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। কিছু প্রাথমিক গবেষণায় অয়েল পুলিংয়ের ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে, তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন
অয়েল পুলিং একটি সহায়ক স্বাস্থ্যচর্চা, কিন্তু এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়। দাঁত, মাড়ি বা মুখের সমস্যায় অবশ্যই দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া তেল কখনও গিলে ফেলা যাবে না। নিয়ম মেনে ও পরিমিতভাবে এই অভ্যাস করলে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.