ডায়াবেটিসে কি সত্যিই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ডায়াবেটিসকে অনেকেই শুধুমাত্র রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সমস্যা বলে মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের নানা অঙ্গের উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শুধু হৃদ্‌রোগ, কিডনি বা চোখের ক্ষতিই নয়, কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। যদিও এর অর্থ এই নয় যে ডায়াবেটিস থাকলেই ক্যানসার হবেই, তবে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

কেন বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। এই অবস্থায় শরীর ইনসুলিনের প্রতি স্বাভাবিকভাবে সাড়া দিতে পারে না। ফলে রক্তে দীর্ঘ সময় ধরে ইনসুলিনের মাত্রা বেশি থাকে। ইনসুলিন কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত ইনসুলিন অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
এর পাশাপাশি স্থূলতা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস একসঙ্গে কাজ করে শরীরে এমন পরিবর্তন আনতে পারে, যা কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

ডায়াবেটিসে কি সত্যিই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ডায়াবেটিসে কি সত্যিই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

টাইপ-২ ডায়াবেটিসে কেন বেশি সতর্কতা প্রয়োজন?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে—

*লিভারের ক্যানসার
*অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার
*জরায়ুর ক্যানসার

এ ছাড়াও কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, আগে থেকেই ডায়াবেটিস থাকলে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এবং মৃত্যুঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ক্যানসারের চিকিৎসায় কী সমস্যা হতে পারে?

যাঁদের ক্যানসার রয়েছে এবং পাশাপাশি ডায়াবেটিসও রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা কিছুটা জটিল হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করা থাকলে—

*সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
*অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত শুকোতে বেশি সময় লাগতে পারে।
*কেমোথেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিশেষ করে হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অসাড়তার সমস্যা, আরও তীব্র হতে পারে।

তাই ক্যানসারের চিকিৎসার পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মেটফরমিন কি ক্যানসার প্রতিরোধ করে?

ডায়াবেটিসের বহুল ব্যবহৃত ওষুধ মেটফরমিন নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। কিছু গবেষণায় এই ওষুধের সম্ভাব্য ক্যানসার-প্রতিরোধী ভূমিকার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, তা এখনও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই শুধুমাত্র ক্যানসার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এই ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্যই এটি ব্যবহার করা উচিত।

কীভাবে ঝুঁকি কমানো সম্ভব?

ডায়াবেটিস থাকলে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে দীর্ঘমেয়াদে জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

*নিয়মিত ফাস্টিং ও খাবারের পরের রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা।
*নির্দিষ্ট সময় অন্তর HbA1c পরীক্ষা করানো।
*স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা।
*প্রতিদিন নিয়মিত শরীরচর্চা করা।
*বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী ক্যানসার স্ক্রিনিং করানো।
*শরীরে অস্বাভাবিক কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

উপসংহার
ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চললেও, এটি আতঙ্কিত হওয়ার বিষয় নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওষুধ সঠিকভাবে সেবন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে শুধু রক্তে শর্করাই নিয়ন্ত্রণে থাকে না, দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিলতার পাশাপাশি কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতনতাই সুস্থ জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক