ত্রিপুরার তিন জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টির জেরে। রাজ্যের ঊনকোটি, ধলাই এবং খোয়াই জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ইতিমধ্যেই ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চার হাজারেরও বেশি বাড়ি। তবে এখনও পর্যন্ত বন্যা বা বৃষ্টিজনিত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনেও বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তৎপর হয়ে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের শীর্ষকর্তা সনৎকুমার দাস জানিয়েছেন, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ভারী বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে মোট ১১ হাজার মানুষকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪,০২৭টি বাড়ি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ঊনকোটি জেলা। সেখানে ৬ হাজার ৬৮ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে ৩৫টি ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে। অন্য দিকে, ধলাই এবং খোয়াই জেলায় মোট ৪ হাজার ৯০৯ জনকে বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, খোয়াই জেলায় একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই জেলায় ২৪টি ত্রাণশিবির গড়ে তোলা হয়েছে। ধলাই জেলায় তৈরি করা হয়েছে ২০টি শিবির। পাশাপাশি উত্তর ত্রিপুরা জেলায় একটি ত্রাণশিবির চালু করা হয়েছে।
এদিকে, প্রবল বর্ষণের জেরে মনু নদীর জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। যদিও বর্তমানে নদীর জলস্তর কিছুটা কমেছে, তবুও বিপদের আশঙ্কা এখনও কাটেনি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
নিচু ও প্লাবনপ্রবণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য, পানীয় জল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কার্যত জলবন্দি। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে বন্যার প্রকোপ আরও কতটা বাড়বে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.