বর্ষাকাল এলেই বাঙালির খাবারের তালিকায় বিশেষ জায়গা করে নেয় ইলিশ। এই সময় বাজারে তুলনামূলক বড় ও সুস্বাদু ইলিশ পাওয়া যায়, তাই নানা ধরনের পদ রান্নার ধুমও পড়ে যায়। সর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ কিংবা বেগুন দিয়ে পাতলা ঝোল—এসব তো বহু পরিচিত। তবে একই স্বাদের বাইরে গিয়ে যদি একেবারে পূর্ববঙ্গের ঘরানার একটি ঐতিহ্যবাহী রান্না চেখে দেখতে চান, তা হলে বানিয়ে দেখতে পারেন ইলিশ-পিটুলি।
পূর্ববঙ্গের রান্নায় ‘পিটুলি’ বলতে সাধারণত চালের গুঁড়ো বা চালের বাটা দিয়ে তৈরি এক ধরনের ঘন ঝোলকে বোঝানো হয়। বিশেষ করে সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চাল ব্যবহার করলে এই রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ আরও বেড়ে যায়। মশলার বাহুল্য নেই, বরং মাছের নিজস্ব স্বাদই এখানে প্রধান আকর্ষণ।
কী কী লাগবে

*বড় আকারের ইলিশ মাছ – ৪ থেকে ৫ টুকরো
*গোবিন্দভোগ চালের বাটা – ৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ
*কাঁচালঙ্কা – ৫ থেকে ৬টি
*কালোজিরে – আধ চা-চামচ
*হলুদ গুঁড়ো – ১ চা-চামচ
*স্বাদ অনুযায়ী নুন
*সর্ষের তেল পরিমাণমতো
রান্নার পদ্ধতি
প্রথমে ইলিশ মাছ ধুয়ে নুন ও হলুদ মাখিয়ে অন্তত এক ঘণ্টা রেখে দিন। এতে মাছে মশলা ভালোভাবে মিশে যাবে।
এরপর কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে কালোজিরে ও চেরা কাঁচালঙ্কা ফোড়ন দিন। তারপর মাছের টুকরোগুলো হালকা করে দুই পিঠে অল্প সময় ভেজে তুলে না নিয়ে কড়াইতেই পর্যাপ্ত জল দিয়ে দিন, যাতে ঝোল তৈরি হয়।
ঝোল ফুটতে শুরু করলে আগে থেকে ভিজিয়ে মিহি করে বাটা গোবিন্দভোগ চাল ধীরে ধীরে মিশিয়ে নাড়তে থাকুন। এতে ঝোল ঘন ও মসৃণ হবে। প্রয়োজনমতো নুন দিয়ে ঢেকে কম আঁচে প্রায় পাঁচ মিনিট রান্না করুন।
ঝোল কাঙ্ক্ষিত ঘনত্বে পৌঁছালে চুলা বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। এরপর গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন সুগন্ধি ও স্বাদে ভরপুর পূর্ববঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ-পিটুলি।
কেন একবার বানিয়ে দেখবেন?
এই রান্নার বিশেষত্ব হল, এতে অতিরিক্ত মশলার ব্যবহার নেই। অল্প কয়েকটি উপকরণেই ইলিশের স্বাভাবিক স্বাদ ও গোবিন্দভোগ চালের সুবাস দারুণভাবে ফুটে ওঠে। বর্ষার দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে এই পদ পরিবেশন করলে ভোজনরসিকদের মন জয় করতে সময় লাগবে না।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.