একসময় জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। যে ছবিতে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, সেই ছবিই পরে অস্কারের মনোনয়নও পায়। অথচ জীবনের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি অটো চালিয়ে সংসার চালান। বলিউডের আলো-ঝলমলে দুনিয়া থেকে বহু দূরে, বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে এখন সাধারণ জীবন কাটাচ্ছেন অভিনেতা শফীক সৈয়দ।
আশির দশকের শেষভাগের ঘটনা। অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কিশোর বয়সে মুম্বইয়ে পা রেখেছিলেন শফীক। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১২ বছর। মুম্বইয়ের চার্চগেট স্টেশনের আশপাশে দিন কাটছিল তাঁর। সেই সময় আচমকাই ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। এক মহিলা তাঁর হাতে ২০ টাকা তুলে দেন এবং নিয়ে যান একটি অভিনয়ের কর্মশালায়। সেই মহিলাই ছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার।
মীরা নায়ারের ‘সলাম বম্বে’ ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান শফীক। ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে নানা পটেকর, ইরফান খান এবং রঘুবীর যাদবের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এত কম বয়সেই নিজের অভিনয় দক্ষতায় দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করে নেন শফীক।
‘সলাম বম্বে’ শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও বিপুল প্রশংসা অর্জন করেছিল। ছবিটি অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার পান শফীক সৈয়দ। পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ১৫ হাজার টাকা। সেই সাফল্যের পর তাঁর আশা ছিল, বলিউডে আরও কাজের সুযোগ পাবেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছিল সম্পূর্ণ উল্টো।
‘সলাম বম্বে’-র সাফল্যের পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন ছবির প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রত্যাশিত সুযোগ আর আসেনি। অবশেষে ১৯৯৪ সালে পরিচালক গৌতম ঘোষের ‘পতঙ্গ’ ছবিতে অভিনয় করেন শফীক। তবে সেটিই ছিল তাঁর কেরিয়ারের শেষ উল্লেখযোগ্য কাজ। এরপর ধীরে ধীরে হতাশ হয়ে মুম্বই ছেড়ে নিজের শহর বেঙ্গালুরুতে ফিরে যান তিনি।
বেঙ্গালুরু ফিরে কন্নড় চলচ্চিত্র জগতেও নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন শফীক। কিন্তু সেখানেও সাফল্য ধরা দেয়নি। অভিনয়ের পাশাপাশি দক্ষিণী চলচ্চিত্র শিল্পে লাইটম্যান এবং প্রযোজনা সংস্থার কর্মী হিসেবেও কাজ করেন। পর্যাপ্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় অন্য কোনও স্থায়ী চাকরিও জোটেনি তাঁর।
অবশেষে সংসারের দায়-দায়িত্ব সামলাতে বেঙ্গালুরু শহর থেকে প্রায় ১৮-১৯ কিলোমিটার দূরে অটোচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে অটো চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন শফীক। দৈনিক প্রায় ১৫০ টাকা আয় হয় তাঁর। পরিবারের পাঁচ সদস্যের দায়িত্ব একাই বহন করছেন তিনি।
অভিনয়জগত থেকে দূরে সরে গেলেও নিজের সৃজনশীলতাকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেননি শফীক। নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৮০ পাতার একটি গল্পও লিখেছেন তিনি। তাঁর আশা, কোনও প্রযোজকের যদি সেই গল্প পছন্দ হয়, তাহলে হয়তো একদিন সেটি চলচ্চিত্রের রূপ পাবে।
শফীক মনে করেন, ‘সলাম বম্বে’-র গল্প অনেকটাই তাঁর নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি। জীবনের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব মেলাতে গিয়ে একসময় চরম হতাশায় ভুগেছিলেন তিনি। এমনকি আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। তবে দু’বার সেই পথ থেকে ফিরে আসেন।
জাতীয় পুরস্কার, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং অস্কার-মনোনীত ছবির অংশ হওয়ার পরও শফীক সৈয়দের জীবন আজ সংগ্রাম আর অপূর্ণতার গল্প। তাঁর কাহিনি একদিকে যেমন স্বপ্নভঙ্গের প্রতিচ্ছবি, তেমনই অন্যদিকে কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়াই করে বেঁচে থাকার এক অনন্য উদাহরণ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.