বিরল জিনগত রোগ ‘এফএপি’: বৃহদন্ত্রে শত শত পলিপ, বাড়ে ক্যানসারের আশঙ্কা

রক্তের ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার পর এক তরুণের শরীরে ধরা পড়েছে আরেকটি অত্যন্ত বিরল জিনগত রোগ। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর বৃহদন্ত্রে (কোলন) অসংখ্য পলিপ বা মাংসপিণ্ড তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে ফ্যামিলিয়াল অ্যাডেনোমেটাস পলিপোসিস (Familial Adenomatous Polyposis বা FAP) নামে পরিচিত একটি বিরল রোগ, যা সময়মতো শনাক্ত না হলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

এফএপি কী?

ফ্যামিলিয়াল অ্যাডেনোমেটাস পলিপোসিস একটি বংশগত বা জিনগত রোগ। এতে মূলত বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ের ভেতরের আস্তরণে অসংখ্য ছোট পলিপ তৈরি হতে থাকে। শুরুতে এগুলি নিরীহ মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু পলিপে ক্যানসারের কোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিরল জিনগত রোগ ‘এফএপি’: বৃহদন্ত্রে শত শত পলিপ, বাড়ে ক্যানসারের আশঙ্কা
বিরল জিনগত রোগ ‘এফএপি’: বৃহদন্ত্রে শত শত পলিপ, বাড়ে ক্যানসারের আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি সাধারণত কৈশোর বা ২০ বছরের পর থেকে ধরা পড়তে শুরু করে। প্রথম দিকে তেমন উপসর্গ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়।

কেন হয় এই রোগ?

এফএপির প্রধান কারণ হল APC (এপিসি) জিনের মিউটেশন বা ত্রুটি। এই জিন স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু জিনে পরিবর্তন ঘটলে সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ফলে বৃহদন্ত্রের কোষ দ্রুত বিভাজিত হতে থাকে এবং একের পর এক পলিপ তৈরি হয়। চিকিৎসা না হলে এই পলিপগুলির একটি অংশ পরবর্তীতে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

বংশগত হওয়ার সম্ভাবনা কতটা?

এটি একটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া রোগ। পরিবারের কোনও সদস্যের শরীরে যদি APC জিনের ত্রুটি থাকে, তবে তা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সঞ্চারিত হতে পারে। তাই পরিবারের কারও এফএপি ধরা পড়লে অন্যান্য সদস্যদেরও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

শুধু কোলন নয়, অন্য অঙ্গেও ঝুঁকি

এফএপি প্রধানত বৃহদন্ত্রকে আক্রান্ত করলেও এর প্রভাব সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, মলাশয় এবং কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েডের মতো অঙ্গেও ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়ার ভূমিকাও রয়েছে
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অন্ত্রের স্বাভাবিক উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট হলে পলিপ তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিছু গবেষণায় এফএপি রোগীদের অন্ত্রে ই. কোলাই (E. coli) ব্যাক্টেরিয়ার অস্বাভাবিক উপস্থিতিও লক্ষ্য করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আরও গবেষণা চলছে।

চিকিৎসা কী?

এফএপি যত দ্রুত ধরা পড়বে, চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনা তত বেশি। নিয়মিত কোলনোস্কোপির মাধ্যমে পলিপের সংখ্যা ও অবস্থার পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বৃহদন্ত্রের আক্রান্ত অংশ অপসারণ করা হতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো যায়।
অন্যদিকে, যদি পলিপ দীর্ঘদিন অচিকিৎসিত অবস্থায় থেকে ক্যানসারে পরিণত হয় এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন চিকিৎসা অনেক বেশি জটিল হয়ে যায়।

সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারে যদি কোলন ক্যানসার বা এফএপির ইতিহাস থাকে, তবে অল্প বয়স থেকেই জিনগত পরীক্ষা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে গুরুতর জটিলতা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক