পায়ে ব্যথা মানেই কি পায়ের সমস্যা? সায়াটিকার লক্ষণ চিনবেন কীভাবে

অনেকেই মনে করেন পায়ে ব্যথা মানেই বেশি হাঁটাহাঁটি, পেশিতে টান বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফল। কিন্তু সব সময় এমনটা নয়। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার আসল উৎস থাকে কোমর বা মেরুদণ্ডে। কোমরের স্নায়ুতে চাপ পড়লে সেই ব্যথা কোমর থেকে নিতম্ব, উরু হয়ে পায়ের পাতায় পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকেই বলা হয় সায়াটিকা (Sciatica)।

সায়াটিকা কী?

সায়াটিক নার্ভ শরীরের সবচেয়ে বড় স্নায়ুগুলির একটি। এটি কোমরের নিচের অংশ থেকে শুরু হয়ে নিতম্ব ও পায়ের দিকে নেমে গেছে। এই স্নায়ুতে চাপ বা প্রদাহ সৃষ্টি হলে কোমর থেকে পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে, যাকে সায়াটিকা বলা হয়।

সায়াটিকার লক্ষণ

সাধারণ পেশির ব্যথার সঙ্গে সায়াটিকার ব্যথার পার্থক্য রয়েছে। লক্ষণগুলির মধ্যে থাকতে পারে—
*কোমর থেকে উরু ও পায়ের পাতায় ছড়িয়ে পড়া ব্যথা
*বিদ্যুৎ খেলে যাওয়ার মতো তীব্র ব্যথার অনুভূতি
*জ্বালাপোড়া বা তীক্ষ্ণ ব্যথা
*পায়ে ঝিনঝিন ভাব বা অসাড়তা
*পেশিতে দুর্বলতা
*দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
*কাশি, হাঁচি বা শরীর নড়াচড়ার সময় ব্যথা বৃদ্ধি

অনেকের ক্ষেত্রে কোমরে তেমন ব্যথা না থাকলেও পায়ের ব্যথাই প্রধান উপসর্গ হয়ে দেখা দিতে পারে।

কেন হয় সায়াটিকা?

সায়াটিকার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো হার্নিয়েটেড বা ফুলে যাওয়া ডিস্ক। মেরুদণ্ডের কশেরুকার মাঝখানে থাকা ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পাশের স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে এবং সেই ব্যথা পায়ের দিকে ছড়িয়ে যায়।

এ ছাড়া আরও কিছু কারণ হতে পারে—
*বয়সজনিত মেরুদণ্ডের পরিবর্তন
*স্পাইনাল ক্যানাল সরু হয়ে যাওয়া
*হাড়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধি
*কোমরে আঘাত বা চোট

সব পায়ের ব্যথাই কি সায়াটিকা?

না। পেশি, জয়েন্ট, রক্তনালি বা অন্য স্নায়ুর সমস্যার কারণেও পায়ে ব্যথা হতে পারে। তাই শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সায়াটিকা মানেই কি অস্ত্রোপচার?

একেবারেই নয়। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। সমস্যার তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসক ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। প্রয়োজন হলে স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা বা ইমেজিং টেস্টও করা হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
*ব্যথা কয়েক সপ্তাহেও না কমলে
*ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকলে
*হাঁটা, ঘুম বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে
*পায়ে দুর্বলতা বা অসাড়তা দেখা দিলে
*ব্যথা বারবার ফিরে এলে

মেরুদণ্ড সুস্থ রাখার উপায়

সায়াটিকার ঝুঁকি কমাতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুলুন—

*শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
*নিয়মিত ব্যায়াম করুন
*কোমর ও পেটের পেশি শক্তিশালী করুন
*দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না
*কাজের ফাঁকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করুন

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের বদলে গরম জল? কতটা সত্য এই ভাইরাল দাবি

উপসংহার
পায়ে ব্যথা হলেই সেটিকে সাধারণ পেশির সমস্যা ভেবে অবহেলা করবেন না। যদি কোমর থেকে ব্যথা পায়ের দিকে নেমে আসে এবং তার সঙ্গে ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা বা দুর্বলতা থাকে, তবে এর পেছনে সায়াটিকার মতো স্নায়ুর সমস্যা থাকতে পারে। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক