একসময় একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েও দীর্ঘদিন ভাল চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল অভিনেতা সনী দেওল(Sunny Deol)কে। ‘গদর: এক প্রেম কথা’ এবং ‘ইন্ডিয়ান’-এর মতো ছবির সাফল্যের পরেও তাঁর কেরিয়ারে নেমে এসেছিল অনিশ্চয়তা। সেই কঠিন সময়, আর্থিক চাপ এবং প্রায় ৫৬ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়েও কী ভাবে নিজেকে ভাল রেখেছিলেন, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তা জানিয়েছেন অভিনেতা।
২০০১ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘গদর’ এবং ‘ইন্ডিয়ান’। সনীর দাবি, আমির খান অভিনীত ‘লগান’-এর তুলনায় ‘ইন্ডিয়ান’ কয়েক গুণ বেশি ব্যবসা করেছিল। ‘গদর’-এর সাফল্যও ছিল বিপুল। কিন্তু সেই সময়ের পর প্রত্যাশামতো কাজ তাঁর কাছে আসেনি। তাঁর মতে, ঠিক সেই সময় থেকেই হিন্দি চলচ্চিত্রের জগতে বড় পরিবর্তন শুরু হয়। কর্পোরেট সংস্থার প্রবেশের ফলে বদলে যেতে থাকে ছবি তৈরি ও ব্যবসার ধরন।
এর পর ‘জো বলে সো নিহাল’ ছবিকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ে। ছবির নাম ও বিষয়বস্তু নিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের একাংশ আপত্তি জানিয়েছিল। পরে দিল্লির একটি প্রেক্ষাগৃহে ছবির প্রদর্শনের সময় বিস্ফোরণে এক জনের মৃত্যু এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। সনীর অভিযোগ, ধীরে ধীরে রাজনীতির প্রভাব চলচ্চিত্র জগতেও বাড়ছিল। তাঁর মতে, অভিনেতা ও পরিচালকদের মূল কাজ বিনোদন দেওয়া এবং অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাঁদের কাজ করতে দেওয়া উচিত।
পেশাগত অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বাড়তে থাকে আর্থিক চাপও। প্রযোজনা সংস্থা থেকে নিজের পরিচালিত ছবি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি সনী। ‘দিল্লগি’, ‘ঘায়েল রিটার্নস’ এবং ‘পল পল দিল কে পাস’-এর মতো ছবিও বক্সঅফিসে বড় সাফল্য এনে দিতে পারেনি। ২০২৩ সালে তাঁর আর্থিক সমস্যার খবর প্রকাশ্যে আসে। মুম্বইয়ের জুহুতে তাঁর বাংলো নিলামে ওঠার খবরও সামনে আসে। জানা যায়, তাঁর ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৬ কোটি টাকা হয়েছিল।
তবে এত আর্থিক চাপের মধ্যেও জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েননি সনী। অভিনেতার বক্তব্য, ঋণে ডুবে থাকলেও তিনি যথেষ্ট আনন্দে ছিলেন। কারণ, প্রয়োজনে নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে সেই ঋণ মেটানোর উপায় তাঁর হাতে ছিল। অর্থের সমস্যা থাকলেও তাই সেটিকে নিজের জীবনের আনন্দের পথে বাধা হতে দেননি তিনি।
২০২৩ সালে ‘গদর ২’-এর বিপুল সাফল্য অবশ্য সনীর কেরিয়ারে নতুন মোড় এনে দেয়। দীর্ঘ বিরতির পর ফের বড় পর্দার আলোচনায় উঠে আসেন অভিনেতা। এরপর ‘জাট’-সহ একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে রাজকুমার সন্তোষীর সঙ্গে ফের জুটি বেঁধেছেন ‘বঁটওয়ারা ১৯৪৭’-এ।
ব্যর্থতা, আর্থিক সংকট এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর সনী দেওলের কেরিয়ার যেন ফের নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বার্তাটি স্পষ্ট—অর্থ কমতে পারে, সাফল্য থমকে যেতে পারে, কিন্তু জীবনের আনন্দকে থামিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.