সোয়াইন ফ্লু চেনার উপায় কী? উপসর্গ ও সতর্কতার নিয়ম জানুন

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা কিংবা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ ভাইরাল জ্বরের সঙ্গেও মিলে যায়। ফলে সোয়াইন ফ্লু বা এইচ১এন১ সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় থাকে।
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একটি ধরন হল এইচ১এন১, যা সাধারণ ভাবে ‘সোয়াইন ফ্লু’ নামে পরিচিত। ভাইরাসটির দ্রুত জিনগত পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে। তবে উপসর্গ দেখা দিলেই যে সোয়াইন ফ্লু হয়েছে, এমন নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ নিশ্চিত করতে হয়।

সোয়াইন ফ্লু হলে কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে?

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এইচ১এন১ সংক্রমণে কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—
*হঠাৎ তীব্র জ্বর ও কাঁপুনি।
*জ্বরের সঙ্গে সারা শরীরে এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা।
*কয়েক দিন ধরে সর্দি ও কাশি থাকা।
*শুকনো কাশি ও গলাব্যথা।
*গিলতে কষ্ট বা গলায় জ্বালা।
*নাক দিয়ে জল পড়া কিংবা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া।
*শ্বাসনালিতে প্রদাহ এবং শ্বাস নিতে কষ্ট।
*মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা।
*কিছু ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা, বমি বা ডায়রিয়া।

বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

সোয়াইন ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে কিছু মানুষের জটিলতা তৈরির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
*শিশু ও প্রবীণরা।
*অন্তঃসত্ত্বা মহিলা।
*হাঁপানি, ডায়াবিটিস বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
*অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা মানুষ।
*আগে নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের রোগ হয়েছিল এমন ব্যক্তি।
*আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে থাকা স্বাস্থ্যকর্মী।

তাই এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

সংক্রমণ এড়াতে কী করবেন?

সোয়াইন ফ্লু-সহ শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে কয়েকটি সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

হাত পরিষ্কার রাখুন: বাইরে থেকে বাড়ি ফেরার পর সাবান দিয়ে ভাল ভাবে হাত ধুয়ে নিন। প্রয়োজন হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করতে পারেন।

কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢাকুন: হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু, রুমাল অথবা কনুই দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।

প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন: সর্দি-কাশি রয়েছে বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা ভিড় বা জনবহুল জায়গায় মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন: জ্বর, কাশি বা ফ্লুর মতো উপসর্গ রয়েছে এমন ব্যক্তির খুব কাছাকাছি না থাকাই ভাল।

অসুস্থ হলে বিশ্রাম নিন: পরিবারের কারও জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা রাখা সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

নিজে থেকে ওষুধ খাবেন না
জ্বর বা কাশি হলেই নিজের মতো করে অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। সোয়াইন ফ্লু হয়েছে কি না এবং কোন চিকিৎসা প্রয়োজন, তা চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।
বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, অত্যধিক দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শুধু কোলেস্টেরল নয়, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বুঝতে কাজে আসতে পারে এই ৯ রক্তপরীক্ষা

আতঙ্ক নয়, সতর্কতা জরুরি
সোয়াইন ফ্লুয়ের অনেক উপসর্গই সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ভাইরাল জ্বরের মতো। তাই শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না যে এটি এইচ১এন১ সংক্রমণ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক