রান্না না করে নাচের ক্লাসে যেতে চেয়েছিলেন স্ত্রী। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভয়াবহ পরিণতি। স্ত্রীকে ‘শিক্ষা’ দিতে গিয়ে সন্তানদের সামনেই তাঁকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮ বছরের যামিনী যাদবের। ঘটনায় তাঁর স্বামী কৃষ্ণলাল যাদবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের নাগপুরের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যামিনী নাচতে ভালবাসতেন। তাঁদের আবাসনেই একটি নাচের ক্লাস চলত। নিয়মিত সেখানে যেতেন তিনি। কিন্তু স্ত্রী নাচের ক্লাসে যাওয়া নিয়ে স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই অশান্তি হত বলে পুলিশকে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে রান্না করে খাবার তৈরি করতে বলেন কৃষ্ণলাল। কিন্তু সেই সময় নাচের ক্লাসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন যামিনী। তিনি জানিয়ে দেন, ওই দিন রান্না করতে পারবেন না। অভিযোগ, এই বিষয়টি নিয়েই দু’জনের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে তা ভয়াবহ মারধরে গড়ায়।
আরও পড়ুন,
লরিতে গাড়ির ধাক্কা! কেরলমে মৃত্যু ৮ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার, তামিলনাড়ু থেকে কেন গিয়েছিলেন তাঁরা?
পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন কৃষ্ণলাল। সন্তানদের সামনেই স্ত্রীর ঘাড় এবং পেটে সজোরে আঘাত করেন তিনি। মারধরের পর যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন যামিনী। স্বামীর কাছে ব্যথার ওষুধ এনে দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। এরপর ওষুধ কিনতে দোকানে গেলেও সেটি বন্ধ থাকায় খালি হাতেই বাড়ি ফিরে আসেন অভিযুক্ত। এর মধ্যে যামিনীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। আঘাতের জেরে তাঁর পেট ফুলে গিয়েছিল বলে জানা যায়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় তাঁর। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসতেই বদলে যায় তদন্তের গতিপথ। রিপোর্টে যামিনীর ঘাড়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি অন্ত্রে গুরুতর আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন,
সাঁতার শিখতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি, ঢাকুরিয়ার সুইমিং ক্লাবে জলে তলিয়ে মৃত্যু একাদশ শ্রেণির ছাত্রের
এরপরই কৃষ্ণলালের বিরুদ্ধে খুনের ধারা যোগ করে পুলিশ। ঠিক কী কারণে স্ত্রীর উপর এমন আক্রোশ তৈরি হয়েছিল, নাচের ক্লাসে যাওয়া এবং রান্না না করার বিষয়টিই কি একমাত্র কারণ, নাকি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.