Vastu: বাড়িতে গণেশ মূর্তি কোন উপাদানে ও কোন মাপ ভালো?

Vastu: বাড়িতে গণেশের মূর্তি রাখা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অত্যন্ত প্রচলিত। ভক্তদের বিশ্বাস, গণেশ হলেন বিঘ্নহর্তা—অর্থাৎ বাধা দূরকারী এবং সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। তবে শুধু মূর্তি রাখলেই হয় না, বাস্তু মত অনুযায়ী মূর্তির রং, উপাদান, ভঙ্গি, শুঁড়ের দিক এবং স্থাপনের স্থান-এর দিকেও নজর দেওয়া উচিত।
বাস্তুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, সঠিক জায়গায় গণেশ মূর্তি রাখলে বাড়ির পরিবেশে ইতিবাচকতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই নতুন গণেশ মূর্তি কেনার আগে জেনে নিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।

গণেশ মূর্তির কোন রং শুভ?

বাস্তু মতে, গণেশ মূর্তির রং বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

সাদা গণেশ: শান্তি, সুখ ও স্বস্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
সিঁদুর রঙের গণেশ: সম্পদ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়।
সোনালি রঙের গণেশ: সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির জন্য শুভ বলে বিশ্বাস করা হয়।

তবে রং বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ এবং উপাসনার ধরনকেও গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

গণেশের শুঁড় কোন দিকে থাকা উচিত?

গণেশ মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলির একটি।
বাঁ দিকে বাঁকানো শুঁড়ের গণেশ বাড়িতে রাখার জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ বলে বাস্তু ও প্রচলিত বিশ্বাসে মনে করা হয়। অন্যদিকে, ডান দিকে বাঁকানো শুঁড়ের গণেশ-কে বেশি নিয়ম-নিষ্ঠভাবে পূজা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে অনেকের বিশ্বাস।
তাই নিয়মিত পূজা করার সুযোগ না থাকলে সাধারণত বাঁ দিকে বাঁকানো শুঁড়ের মূর্তি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কোন উপাদানের গণেশ মূর্তি ভালো?

গণেশ মূর্তি বিভিন্ন উপাদানে তৈরি হয়। বাস্তু-সংক্রান্ত প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী উপাদানভেদে এর আলাদা তাৎপর্য রয়েছে।

রুপোর গণেশ: খ্যাতি ও সম্মানের সঙ্গে যুক্ত।
কাঠের গণেশ: সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর প্রতীক বলে মনে করা হয়।
স্ফটিকের গণেশ: বাস্তুদোষ কমাতে সহায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
আম, নিম বা পিপল কাঠের গণেশ: সৌভাগ্যের জন্য শুভ বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
গোবরের তৈরি গণেশ: নেতিবাচকতা দূর করার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

এগুলি মূলত ধর্মীয় ও বাস্তু-ভিত্তিক বিশ্বাস; বৈজ্ঞানিকভাবে এসব প্রভাব প্রমাণিত নয়।

বাড়িতে গণেশ মূর্তি কোন দিকে রাখবেন?

বাস্তু মতে, গণেশ মূর্তি রাখার ক্ষেত্রে উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিম দিককে শুভ বলে মনে করা হয়।
বিশেষ করে উত্তর দিককে গণেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। অন্যদিকে, বাড়ির দক্ষিণ দিকে গণেশ মূর্তি স্থাপন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মূর্তি এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে পরিবারের সদস্যরা সহজে প্রার্থনা বা পূজা করতে পারেন এবং জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।

দরজার কাছে গণেশ মূর্তি রাখা যায়?

প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে গণেশ মূর্তি রাখার বিষয়ে বাস্তুতে কিছু নির্দিষ্ট মত রয়েছে।
যদি বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার উত্তর বা দক্ষিণ দিকে হয়, তাহলে সেখানে গণেশ মূর্তি রাখা যেতে পারে বলে প্রচলিত বাস্তু মত রয়েছে। তবে প্রবেশদ্বার পূর্ব বা পশ্চিম দিকে হলে সেখানে গণেশ মূর্তি না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রবেশদ্বারে মূর্তি রাখলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা হয়—

1. মূর্তির শুঁড় বাঁ দিকে বাঁকানো হওয়া ভালো বলে মনে করা হয়।
2. সিঁদুর রঙের গণেশকে প্রবেশদ্বারের জন্য শুভ বলে ধরা হয়।
3. মূর্তির মুখ বাড়ির ভিতরের দিকে থাকা উচিত বলে বাস্তু মতে বিশ্বাস করা হয়।
4. ডান দিকে বাঁকানো শুঁড়ের মূর্তি হলে সেটি বাড়ির ভিতরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাথরুম বা স্টোররুমের কাছে গণেশ রাখবেন না
গণেশ মূর্তি কখনও বাথরুম, লন্ড্রি রুম, স্টোররুম, গ্যারেজ কিংবা সিঁড়ির নিচের জায়গায় রাখা উচিত নয় বলে বাস্তু মতে মনে করা হয়।
বিশ্বাস অনুযায়ী, এগুলি এমন জায়গা যেখানে দীর্ঘ সময় মানুষের চলাচল কম থাকে। তাই গণেশ মূর্তি রাখার জন্য বাড়ির পরিষ্কার, আলো-বাতাসযুক্ত এবং সক্রিয় জায়গা বেছে নেওয়াই ভালো।

বসা গণেশ নাকি দাঁড়ানো গণেশ?

বাড়ির জন্য গণেশের বসা বা হেলান দেওয়া মূর্তি বেশি শুভ বলে প্রচলিত বাস্তু মত রয়েছে।
বসা অবস্থায় গণেশকে শান্তি, স্থিরতা ও প্রশান্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে, সম্পদ ও বিলাসিতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে হেলান দেওয়া গণেশের মূর্তিকে যুক্ত করা হয়।
মূর্তি কেনার সময় গণেশের হাতে মোদক, পাশে ইঁদুর এবং মূর্তির সামগ্রিক ভঙ্গি ঠিক আছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে পারেন।

গণেশ মূর্তি কি মাটিতে রাখা যায়?

বাস্তু মতে, গণেশ মূর্তি সরাসরি মেঝেতে রাখা উচিত নয়। একটি ছোট টেবিল, কাঠের পিঁড়ি বা উঁচু প্ল্যাটফর্মের উপর মূর্তি স্থাপন করা ভালো বলে মনে করা হয়।
এতে মূর্তিটি পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত পূজা করাও সহজ হয়।

বাড়িতে কতগুলি গণেশ মূর্তি রাখা উচিত?

একই বাড়িতে অনেকগুলি গণেশ মূর্তি না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাস্তু-সংক্রান্ত প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়িতে একটি গণেশ মূর্তি রাখাই ভালো।
তবে বাড়ির বিভিন্ন ঘরে আলাদা ছবি বা মূর্তি রাখার বিষয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট বাস্তু নিয়ম মেনে চলতে চাইলে একই ঘরে একাধিক গণেশ মূর্তি না রাখাই নিরাপদ বলে ধরা হয়।

গণেশ মূর্তির আশপাশে লাল রং ব্যবহার
গণেশের সঙ্গে লাল বা সিঁদুর রঙের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধর্মীয় বিশ্বাসে ধরা হয়। তাই গণেশ মূর্তির আশপাশে লাল ফুল, লাল কাপড় বা লাল রঙের অন্যান্য পূজার সামগ্রী ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষ করে সিঁদুর রঙের গণেশকে সমৃদ্ধি ও শুভশক্তির প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়।

গণেশ মূর্তির মাপ কত হওয়া উচিত?

বাড়িতে গণেশ মূর্তি রাখার ক্ষেত্রে খুব বড় মূর্তির প্রয়োজন নেই। বরং যে মূর্তি সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং নিয়মিত পূজা করা সম্ভব, সেটিই বেছে নেওয়া ভালো।
বাস্তু অনুসরণ করতে চাইলে মূর্তির আকারের পাশাপাশি স্থান, দিক, ভঙ্গি এবং নিয়মিত যত্ন নেওয়ার সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দিন।

এক নজরে গণেশ মূর্তি রাখার বাস্তু টিপস

বিষয়- প্রচলিত বাস্তু মত
শুভ দিক- উত্তর, উত্তর-পূর্ব, পশ্চিম
এড়ানো ভালো- দক্ষিণ দিক
শুঁড়- বাঁ দিকে বাঁকানো
ভঙ্গি- বসা বা হেলান দেওয়া
শুভ রং- সাদা, সিঁদুর, সোনালি
মূর্তির স্থান- পরিষ্কার ও উঁচু জায়গা
এড়িয়ে চলুন- বাথরুম, স্টোররুম, গ্যারেজ
প্রবেশদ্বার- উত্তর/দক্ষিণ হলে মূর্তি রাখার প্রচলিত মত
প্রবেশদ্বারে মুখ- বাড়ির ভিতরের দিকে
মূর্তির সংখ্যা- সাধারণত একটি রাখার পরামর্শ

Vastu: বাড়িতে মন্দির কোন দিকে রাখবেন, কী নিয়ম মানবেন?

শেষ কথা
গণেশ মূর্তি বাড়িতে রাখার ক্ষেত্রে শুধু বাস্তু নয়, শ্রদ্ধা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত উপাসনার সুবিধাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বাস্তু-সংক্রান্ত নিয়মগুলি মূলত প্রাচীন বিশ্বাস ও প্রচলিত মতের উপর নির্ভরশীল, এগুলির ইতিবাচক বা নেতিবাচক শক্তির প্রভাবের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তাই নতুন গণেশ মূর্তি কেনার সময় নিজের বিশ্বাস ও প্রয়োজনের পাশাপাশি মূর্তিটি কোথায় রাখলে নিয়মিত যত্ন নেওয়া সম্ভব, সেটিও বিবেচনা করুন।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক