ডাইনোসরদের নিয়ে গবেষণা যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চমকপ্রদ সব তথ্য। কখনও মিলছে নতুন কোনও জীবাশ্ম, আবার কখনও পুরনো জীবাশ্মের মধ্যেই লুকিয়ে থাকা তথ্য বদলে দিচ্ছে বিজ্ঞানীদের ধারণা। এবার এমনই এক ব্যতিক্রমী আবিষ্কার সামনে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা থেকে। সেখানে ডাইনোসরের পায়খানার জীবাশ্মের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি প্রাচীন পাখির পালক।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ওই পায়খানাটি সম্ভবত টিরেক্স প্রজাতির একটি ডাইনোসরের। জীবাশ্মটি পরীক্ষা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা তার মধ্যে এমন একটি নমুনার সন্ধান পান, যা তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হল একটি পাখির পালক। ডাইনোসরদের যুগের পাখির জীবাশ্ম এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি নিয়ে গবেষণাও করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু ডাইনোসরের পায়খানার জীবাশ্মের ভিতরে এতটা ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাখির পালক পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ফলে এই আবিষ্কারকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, ডাইনোসরদেরই একটি শাখা থেকে আধুনিক পাখিদের বিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সেই বিবর্তনের পথে বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে যায়, আবার কিছু প্রজাতি টিকে থাকে। কীভাবে এই পরিবর্তন ঘটেছিল, কেন কিছু পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেল এবং কীভাবে বর্তমান পাখিদের পূর্বপুরুষরা টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে।
এই নতুন আবিষ্কৃত পালক সেই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাইনোসরটি কোনও একটি প্রাচীন পাখিকে খাওয়ার পর তার একটি পালকও গিলে ফেলেছিল। পরে সেই পালকটি ডাইনোসরের মলের সঙ্গে শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটিই জীবাশ্মে পরিণত হয়।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জীবাশ্মের মধ্যে পালকটি অত্যন্ত ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে সেই সময়ের পাখিদের গঠন, বৈশিষ্ট্য এবং ডাইনোসরদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অর্থাৎ, একটি ডাইনোসরের পায়খানার জীবাশ্মই এবার খুলে দিতে পারে প্রাচীন পাখিদের বিবর্তন এবং ডাইনোসর থেকে পাখির বংশধর হয়ে ওঠার ইতিহাসের নতুন দরজা।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.