গণপতি স্থাপনের শুভ মুহূর্ত আড়াই ঘণ্টা, জেনে নিন গণেশ চতুর্থীর পুজোর সময় ও নিয়ম

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র গণেশ চতুর্থী। মহারাষ্ট্রে এই উৎসব ১০ দিন ধরে ধুমধাম করে পালিত হলেও বর্তমানে বাংলার বহু বাড়িতেও ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে গণপতি পুজো করা হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা করলে জীবনের বাধা-বিঘ্ন দূর হয় এবং পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর গণেশ চতুর্থীর দিন মধ্যাহ্নকালেই গণপতি প্রতিষ্ঠা ও পুজোর জন্য রয়েছে বিশেষ শুভ সময়। তাই নির্ধারিত মুহূর্ত মেনে গণেশের প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করলে পুজো আরও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করা হয়।

গণেশ চতুর্থীর তিথি কখন?

হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে শুরু হয়েছে। এই তিথি শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে। উদয় তিথির নিয়ম মেনে ১৪ সেপ্টেম্বরই পালিত হচ্ছে গণেশ চতুর্থী।

গণপতি স্থাপনের শুভ সময়
গণেশ চতুর্থীর দিন গণপতি প্রতিষ্ঠার জন্য মধ্যাহ্নের সময়টিকেই বিশেষ শুভ বলে মনে করা হচ্ছে।

পুজোর শুভ সময়: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত।

অর্থাৎ গণপতি প্রতিমা স্থাপন ও মূল পুজো সম্পন্ন করার জন্য ভক্তদের হাতে থাকছে প্রায় আড়াই ঘণ্টার শুভ সময়।

অভিজিৎ মুহূর্ত কখন?

এই দিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শুভ সময় হল অভিজিৎ মুহূর্ত। সকাল ১১টা ৫২ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত থাকবে এই মুহূর্ত। এই সময়ে বিভিন্ন শুভ কাজ করা যেতে পারে। তবে গণপতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মধ্যাহ্ন পুজোর নির্ধারিত সময়টিকেই প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গণেশ চতুর্থীতে রাহুকাল
১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থীর দিন রাহুকাল থাকবে সকাল ৭টা ৪১ মিনিট থেকে ৯টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাহুকালে শুভ কাজ এড়িয়ে চলা উচিত। তবে গণপতি প্রতিষ্ঠার প্রধান শুভ সময় শুরু হচ্ছে রাহুকাল শেষ হওয়ার পর। তাই নির্ধারিত মুহূর্তে নিশ্চিন্তে গণেশের প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

কখন চাঁদের দিকে তাকাবেন না?

গণেশ চতুর্থীতে চাঁদ দেখা নিয়েও বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৬ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দেখা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশ্বাস করা হয়, এই সময় চাঁদের দিকে তাকালে মিথ্যা অপবাদের মতো পাপের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ধর্মীয় বিশ্বাস মেনে ভক্তরা এই সময় বিশেষ সতর্ক থাকেন।

কীভাবে করবেন গণপতি প্রতিষ্ঠার পুজো?

গণেশের প্রতিমা প্রতিষ্ঠার আগে পুজোর স্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর পুজোর বেদির উপর পরিষ্কার লাল বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে তার উপর গণেশের প্রতিমা স্থাপন করুন।
প্রথমে ভক্তিভরে গণেশের ধ্যান করুন। এরপর জল বা পঞ্চামৃত দিয়ে প্রতিমাকে স্নান করিয়ে চাল ও সিঁদুর অর্পণ করুন। গণেশকে লাল ফুল এবং দুর্বা ঘাস নিবেদন করা হয়। এরপর ফল, মিষ্টি ও প্রিয় মোদক নিবেদন করুন।
পুজোর সময় ঘিয়ের প্রদীপ ও ধূপ জ্বালিয়ে গণেশের মন্ত্র জপ করুন। সবশেষে গণেশের আরতি করে পরিবারে শান্তি, সুখ-সমৃদ্ধি এবং জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি দূর করার জন্য প্রার্থনা করুন।

গণেশ চতুর্থীতে কী করা উচিত নয়?

গণেশ পুজোর ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, গণেশকে তুলসী পাতা অর্পণ করা উচিত নয়। তাই গণপতি পুজোর উপকরণের তালিকায় তুলসী না রাখাই ভালো।

কীভাবে গণপতি পেলেন হাতির মাথা? জানুন পৌরাণিক কাহিনি ও শাস্ত্রীয় রহস্য

গণেশ চতুর্থীর শুভ তিথিতে নির্দিষ্ট মুহূর্ত মেনে গণপতি প্রতিষ্ঠা করে নিষ্ঠাভরে পুজো করলে ভগবান গণেশের আশীর্বাদ লাভ করা যায় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস। তাই পুজোর আগে সময় ও নিয়মগুলি ভালোভাবে জেনে নিয়ে সিদ্ধিদাতার আরাধনায় সামিল হতে পারেন ভক্তরা।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক