রোগীর নিজের টিউমার থেকেই তৈরি হবে ক্যানসারের টিকা! প্রতি রোগীর জন্য আলাদা, কী ভাবে কাজ করবে এই অভিনব ভ্যাকসিন?

ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে ব্যক্তিনির্ভর টিকা। একই টিকা সব রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ না করে, প্রত্যেক রোগীর নিজের টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে আলাদা করে টিকা তৈরির পথে এগোচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। মডার্না ও মার্কের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই পরীক্ষামূলক টিকা ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।

কী এই ব্যক্তিনির্ভর ক্যানসার টিকা?

সাধারণত কোনও নির্দিষ্ট রোগের জন্য একটি টিকা তৈরি করা হয়, যা বহু মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু নতুন এই পদ্ধতিতে প্রত্যেক রোগীর জন্য আলাদা টিকা তৈরি করা হবে।
প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর শরীর থেকে টিউমার বাদ দেওয়া হবে। সেই টিউমারের নমুনা নিয়ে তার জিনগত বিন্যাস বিশ্লেষণ করা হবে। কোন কোন জিনে মিউটেশন বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে, তা চিহ্নিত করার পর সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি হবে নির্দিষ্ট রোগীর টিকা।
অর্থাৎ, একজন রোগীর জন্য তৈরি টিকা অন্য রোগীর শরীরে একই ভাবে কাজ করবে—এমনটা ধরে নেওয়া হচ্ছে না।

টিকার নাম কী?

মডার্না ও মার্কের তৈরি এই পরীক্ষামূলক টিকার নাম ইন্টিসমেরান অটোজিন। এটি সাধারণ কোনও দোকান থেকে কিনে নেওয়া ক্যানসারের টিকা নয়। প্রতিটি রোগীর টিউমারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পৃথক ভাবে এটি তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে ত্বকের ক্যানসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন মেলানোমা-র চিকিৎসায় এই টিকার প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা চলছে। পরবর্তীতে মূত্রথলি, প্রস্টেট ও ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে।

কী ভাবে কাজ করবে এই টিকা?

এই টিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল mRNA প্রযুক্তি। কোভিড-১৯-এর কিছু টিকাতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।
ক্যানসারের ক্ষেত্রে লক্ষ্য হল শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে নির্দিষ্ট ক্যানসার কোষ চিনতে এবং তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে সাহায্য করা। টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে টিকাটি এমন একটি ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি করার লক্ষ্য রাখবে, যাতে শরীরের T-কোষ ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

ক্যানসারের টিকা কি প্রতিষেধকের মতো?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ প্রতিষেধক সাধারণত কোনও সংক্রমণ হওয়ার আগেই শরীরকে সেই রোগের বিরুদ্ধে প্রস্তুত করে।
ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই ধরনের টিকা কিন্তু মূলত থেরাপিউটিক ভ্যাকসিন। অর্থাৎ ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর রোগীর শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করাই এর লক্ষ্য।

এখনই কি এই টিকা পাওয়া যাবে?

না। এই ধরনের ব্যক্তিনির্ভর ক্যানসার টিকা এখনও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিটি রোগীর জন্য দ্রুত এবং নির্ভুল ভাবে টিকা তৈরি করা সম্ভব কি না, সেটিও গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তাই এই টিকাকে ক্যানসারের নিশ্চিত বা সাধারণ চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। গবেষণার ফলাফল, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পরই এর ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

গলায় ফোলা ভাব, রাতে অতিরিক্ত ঘাম? লিম্ফোমার ৫ উপসর্গ চিনে রাখুন

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোগীর নিজের টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তার জন্য আলাদা টিকা তৈরির এই ধারণা ব্যক্তিনির্ভর ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক