ক্যানসারের নাম শুনলেই আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে অনেক ক্যানসারই প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তাই শরীরে দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক পরিবর্তনগুলিকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। লিম্ফোমাও তেমনই একটি রোগ, যার কিছু উপসর্গ সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে মিলে যেতে পারে।
লিম্ফোমা কী?
লিম্ফোমা হল লসিকাতন্ত্র বা লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের ক্যানসার। এই তন্ত্র শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত লিম্ফ নোড বা লসিকাগ্রন্থি শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।
লিম্ফোসাইট নামে এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে লিম্ফোমা হতে পারে। প্রধানত দু’ধরনের লিম্ফোমা দেখা যায়—হজকিন্স লিম্ফোমা এবং নন-হজকিন্স লিম্ফোমা।
কোন ৫টি উপসর্গে সতর্ক হবেন?
১.গলা, বাহুমূল বা কুঁচকিতে ফোলা
গলা, বাহুমূল কিংবা কুঁচকির কাছে লিম্ফ নোড ফুলে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই ফোলা জায়গায় ব্যথা থাকে না এবং ত্বকের রঙেও কোনও পরিবর্তন দেখা যায় না। সংক্রমণের কারণেও লিম্ফ নোড ফুলতে পারে, তাই এমন ফোলা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
২. রাতে অস্বাভাবিক ভাবে ঘাম
ঘুমের মধ্যে বার বার এমন ঘাম হওয়া যে পোশাক বা বিছানার চাদর ভিজে যায়, তা অবহেলা করা উচিত নয়। অবশ্য গরম আবহাওয়া, হরমোনের পরিবর্তন, অটোইমিউন রোগ-সহ নানা কারণেও রাতে ঘাম হতে পারে। তবে অন্য উপসর্গের সঙ্গে অতিরিক্ত রাতের ঘাম থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
৩. কারণ ছাড়াই বার বার জ্বর
কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই মাঝেমধ্যে হালকা জ্বর আসছে? সংক্রমণ না থাকা সত্ত্বেও যদি এমন জ্বর বার বার হয়, তা হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। লিম্ফোমার ক্ষেত্রেও ঘন ঘন হালকা জ্বর দেখা দিতে পারে।
৪. চেষ্টা না করেও দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
ডায়েট বা শরীরচর্চায় কোনও পরিবর্তন না আনা সত্ত্বেও যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। ক্যানসারের ক্ষেত্রে শরীরে অস্বাভাবিক কোষের দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে বিপাকীয় পরিবর্তন ও ওজন কমে যাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।
৫. ত্বকে অস্বাভাবিক চুলকানি
হাত, পা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে হঠাৎ দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি শুরু হলে তার কারণ খুঁজে দেখা দরকার। লিম্ফোমার ক্ষেত্রে চুলকানি বা ত্বকে র্যাশও দেখা যেতে পারে। তবে চুলকানি মানেই লিম্ফোমা—এমনটা নয়; অ্যালার্জি, ত্বকের রোগ-সহ আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।
উপসর্গ দেখলেই কি লিম্ফোমা?
একেবারেই নয়। গলার লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, জ্বর, রাতে ঘাম বা ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ বিভিন্ন সাধারণ রোগেও হতে পারে। তাই কোনও একটি লক্ষণ দেখেই ক্যানসার ধরে নেওয়া উচিত নয়।
তবে একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে, বিশেষ করে লিম্ফ নোডের ফোলা দীর্ঘদিন থাকলে বা কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ নির্ণয় করতে পারেন।
মাস্কারা ছাড়াই আঁখিপল্লব ঘন দেখাবে? কয়েক সপ্তাহ এই তেল ব্যবহারের আগে জেনে নিন
মনে রাখবেন: উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকা আতঙ্কিত হওয়ার জন্য নয়, বরং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। শরীরে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.