হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, ভাদ্র পূর্ণিমার পরবর্তী প্রতিপদ তিথি থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত সময়কে পিতৃপক্ষ বলা হয়। এই সময় পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তর্পণ, অন্নদান ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, পিতৃপুরুষ সন্তুষ্ট হলে তাঁদের আশীর্বাদে পরিবারে সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল বজায় থাকে।
চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার থেকে পিতৃপক্ষ শুরু হচ্ছে। এই পক্ষের শেষ দিন ১০ অক্টোবর, শনিবার, যা মহালয়া অমাবস্যা হিসেবে পরিচিত।
পিতৃপক্ষের গুরুত্ব কী?
শাস্ত্র ও পুরাণে পিতৃপুরুষ, পিতা-মাতা, ঋষি ও গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাঁদের উদ্দেশে দান-পুণ্যের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জীবিত অবস্থায় তাঁদের সেবা করার পাশাপাশি মৃত্যুর পর তাঁদের স্মরণ করে তর্পণ ও অন্নদান করলেও তাঁদের আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপুরুষ তুষ্ট হলে জীবনে দীর্ঘায়ু, সন্তানসুখ, ধনসম্পদ, জ্ঞান ও মানসিক শান্তি লাভের পথ প্রশস্ত হয়। মৃত্যুর পর পূর্বপুরুষদের কল্যাণ ও স্বর্গলাভের সঙ্গেও এই আচারকে যুক্ত করা হয়েছে ধর্মীয় গ্রন্থে।
তর্পণ কী এবং কেন করা হয়?
পূর্বপুরুষ, ঋষি, পিতা-মাতা ও গুরুর উদ্দেশে জল, অন্ন বা অন্যান্য উপাচার নিবেদন করে তাঁদের স্মরণ ও সন্তুষ্ট করার ধর্মীয় প্রক্রিয়াকে তর্পণ বলা হয়। তর্পণের বিভিন্ন ধরন রয়েছে এবং রীতি অনুযায়ী তার পদ্ধতিতেও পার্থক্য দেখা যায়।
পিতৃপক্ষে মূলত প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের উদ্দেশে জল ও অন্ন নিবেদন করা হয়। অনেক পরিবারে এই সময় শ্রাদ্ধ, অন্নদান এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচারও পালন করা হয়ে থাকে।
মহাভারতের কর্ণের সঙ্গে পিতৃপক্ষের যোগ
পিতৃপক্ষের সঙ্গে দাতা কর্ণের একটি বহুল প্রচলিত কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। মহাভারতের কাহিনি অনুসারে, মৃত্যুর পর কর্ণ স্বর্গে গেলে তাঁকে খাদ্য হিসেবে স্বর্ণ ও রত্ন দেওয়া হচ্ছিল।
কর্ণ এর কারণ জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, জীবনে তিনি প্রচুর স্বর্ণ ও রত্ন দান করলেও পিতৃপুরুষের উদ্দেশে অন্ন ও জল দান করেননি। তাই স্বর্গেও তাঁর জন্য অন্নের পরিবর্তে স্বর্ণ ও রত্নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কর্ণ জানান, নিজের পিতা ও পিতৃপরিচয় সম্পর্কে তিনি জীবনের শেষ পর্যায়ে জানতে পেরেছিলেন। ফলে পূর্বপুরুষের উদ্দেশে অন্ন ও জল নিবেদন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। এরপর তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মর্ত্যে ফিরে এসে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে অন্ন ও জল দানের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রচলিত বিশ্বাসে এই সময়কালকেই পিতৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
পিতৃপক্ষের প্রতিদিন কি তর্পণ করা উচিত?
পিতৃপক্ষের প্রতিটি দিনই যে প্রত্যেককে তর্পণ করতে হবে, এমন নয়। শাস্ত্রীয় নিয়মে প্রয়াত ব্যক্তির মৃত্যুতিথিতে তর্পণ বা শ্রাদ্ধ করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মৃত্যুতিথি জানা থাকলে সেই তিথি অনুযায়ী পিতৃকর্ম করা হয়। কোনও কারণে নির্দিষ্ট তিথিতে তা সম্ভব না হলে পিতৃপক্ষের অন্য উপযুক্ত তিথিতে আচার পালন করার প্রচলন রয়েছে।
আর যদি কোনও নির্দিষ্ট তিথিতেও করা সম্ভব না হয়, তাহলে পিতৃপক্ষের শেষ দিন অর্থাৎ মহালয়া অমাবস্যায় তর্পণ করার রীতি রয়েছে।
অর্থাৎ, পিতৃপক্ষের প্রতিদিন তর্পণ করাই বাধ্যতামূলক—এমনটা নয়। পরিবারের প্রচলিত রীতি এবং শাস্ত্রীয় বিধি অনুযায়ী উপযুক্ত তিথিতে তর্পণ করা হয়।
২০২৬ সালে পিতৃপক্ষ কবে?
পঞ্জিকা ভেদে তিথির সময়ের ক্ষেত্রে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী
পিতৃপক্ষ শুরু: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার রাত ১০টা ২০ মিনিট
পিতৃপক্ষ শেষ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিট
মহালয়া: ১০ অক্টোবর, শনিবার
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী
পিতৃপক্ষ শুরু: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার রাত ১০টা ৪ মিনিট ৮ সেকেন্ড
পিতৃপক্ষ শেষ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার রাত ৮টা ৩২ মিনিট ৩২ সেকেন্ড
মহালয়া: ১০ অক্টোবর, শনিবার
অতএব, দুই পঞ্জিকাতেই চলতি বছরে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে পিতৃপক্ষ শুরু এবং ১০ অক্টোবর মহালয়া অমাবস্যায় এর সমাপ্তি হচ্ছে। সময়ের ক্ষেত্রে পঞ্জিকাভেদে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
Vastu: মাথা অনাবৃত রেখে আরতি করা কি নিষিদ্ধ? শাস্ত্রমতে জানুন আরতি করার সঠিক নিয়ম
নোট: তর্পণ বা শ্রাদ্ধের ক্ষেত্রে নিজের পরিবারে প্রচলিত নিয়ম এবং স্থানীয় পুরোহিত/পঞ্জিকার নির্দেশ মেনে চলাই শ্রেয়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.