শরতের আকাশে পুজোর মেঘ, বাতাসে আগমনী সুর। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আবহে সেজে উঠছে কলকাতা। দেবীপক্ষের সূচনাকে আরও বিশেষ করে তুলতে এবার সাংস্কৃতিক আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ভারতীয় জাদুঘর। সেখানেই শুরু হতে চলেছে ‘দেবী দুর্গা’ উৎসব। আর এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ বিশিষ্ট ওড়িশি নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। দেবী দুর্গার ভূমিকায় মঞ্চে ধরা দেবেন তিনি।
ভারতীয় জাদুঘরের ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল কোর্টইয়ার্ডে আগামী ১১ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘দেবী দুর্গা’ উৎসব। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম এবং ‘শী কাঁথা’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রাধান্য পাবে ভারতীয় সংস্কৃতি, শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সংগীতের মেলবন্ধন। উৎসবের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় পরিবেশিত হতে চলা নৃত্য-গীতি আলেখ্য ‘রূপং দেহি, জয়ং দেহি’। অনুষ্ঠানটির প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে ‘দীক্ষামঞ্জরী’।
এই বিশেষ নৃত্য পরিকল্পনার পরিচালনায় রয়েছেন বিশিষ্ট ওড়িশি নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের শিষ্যা ডোনা এবার ওড়িশি নৃত্যের ধ্রুপদী আঙ্গিকে ফুটিয়ে তুলবেন দেবী দুর্গার ঐশ্বরিক রূপ। অন্যদিকে, মহিষাসুরের চরিত্রে দেখা যাবে রঘুনাথ দাসকে। দেবী ও অসুরের চিরন্তন সংঘাতের কাহিনি নৃত্যের মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপিত হবে এই মঞ্চে।
শুধু নৃত্য নয়, এই পরিবেশনার অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে সংগীত ও স্তোত্রপাঠ। সাউথ এশিয়ান পারফর্মিং আর্টস এবং দক্ষীণায়ন ইউকে-র কর্ণধার ডক্টর আনন্দ গুপ্তের কণ্ঠে শোনা যাবে স্তোত্রপাঠ ও ধারাবর্ণনা। অনুষ্ঠানটির সংগীত পরিচালনার দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। যুক্তরাজ্য ও কলকাতার প্রায় ১৪ জন শিল্পীকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ সাংগীতিক দল। পাশাপাশি, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে আকাশবাণীর কালজয়ী ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র সুরের আবহও নতুন সংগীতায়োজনে ফিরে আসবে। ফলে নৃত্য, সংগীত ও স্তোত্রের সমন্বয়ে দর্শকদের সামনে ফুটে উঠবে দেবী দুর্গার মাহাত্ম্য।
উদ্যোক্তাদের মতে, ‘দেবী দুর্গা’ উৎসব নিছক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং নারীশক্তির আরাধনার একটি বিশেষ প্রয়াস। অন্যায়, অত্যাচার ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের বার্তাই এই আয়োজনের মূল ভাবনা। মহিষাসুরমর্দিনীর চিরন্তন কাহিনিকে নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরবেন শিল্পীরা।
দেবীপক্ষের আবহে ভারতীয় জাদুঘরের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে এই বিশেষ আয়োজন যে সংস্কৃতিপ্রেমীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে, তা বলাই যায়। ধ্রুপদী নৃত্যের সৌন্দর্য, স্তোত্রপাঠের গাম্ভীর্য এবং চেনা আগমনী সুরের মেলবন্ধনে দুর্গার আরাধনায় এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছেন আয়োজকেরা।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.