দীপাবলির আগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ধনতেরস। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে দেবী লক্ষ্মী, ধনকুবের এবং ভগবান ধন্বন্তরীর পুজো করা হয়। সাধারণত আর্থিক সমৃদ্ধি, সুখ-শান্তি ও সৌভাগ্য কামনায় এই দিন সোনা, রুপো কিংবা নতুন বাসনপত্র কেনেন অনেকে। তবে ধনতেরসের তাৎপর্য শুধু ধনসম্পদ লাভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাতেও এই দিনটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির নির্দিষ্ট দিকে জল রাখার একটি সহজ নিয়ম মেনে চললে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য হতে পারে। বিশেষ করে পরিবারের কোনও সদস্য দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে সুস্বাস্থ্যের কামনায় ধনতেরসের দিন এই বাস্তু নিয়মটি মেনে চলেন অনেকে। তবে কী ভাবে করবেন এই উপায়? জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
ধনতেরস ২০২৬ কবে?
২০২৬ সালে ৬ নভেম্বর, শুক্রবার পালিত হবে ধনতেরস। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভগবান ধন্বন্তরী। তাঁকে আয়ুর্বেদের প্রবর্তক এবং দেবতাদের চিকিৎসক হিসেবে মান্য করা হয়। তাই এই দিনে তাঁর পুজো করে রোগমুক্ত জীবন, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন ভক্তরা।
বাড়ির কোন দিকে রাখবেন জল?
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাড়ির উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব দিককে শুভ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই দিকগুলির সঙ্গে ইতিবাচক শক্তি, শুদ্ধতা এবং সুস্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে। বাস্তু বিশ্বাস মেনে, বাড়ির উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে পরিষ্কার পানীয় জলভর্তি একটি গ্লাস রাখা যেতে পারে। অনেকে প্রতিদিনই এই নিয়ম পালন করেন। ধনতেরসের দিন সুস্বাস্থ্য ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় এই রীতি অনুসরণ করার প্রচলনও রয়েছে। পাশাপাশি, বাড়ির এই দিকটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গোছানো রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে না রেখে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কোন পাত্রে রাখবেন জল?
বাস্তু বিশ্বাস অনুযায়ী, জল রাখার জন্য কাচ, স্টিল কিংবা রুপোর পাত্র ব্যবহার করতে পারেন। অনেকের মতে, উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে জল রাখার ক্ষেত্রে এই ধরনের পাত্র উপযোগী। তবে পাত্রটি পরিষ্কার রাখা এবং পানীয় জল নিয়মিত পরিবর্তন করা জরুরি।
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে আর কী করবেন?
ধনতেরসে ভগবান ধন্বন্তরীর পুজোর মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যের কামনা করার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও শরীরের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরিবারের কোনও সদস্য দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। মনে রাখতে হবে, বাস্তু বা ধর্মীয় রীতিনীতি বিশ্বাসের বিষয়। জল রাখার নির্দিষ্ট দিক বা পাত্রের সঙ্গে রোগ নিরাময়ের কোনও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সম্পর্ক নেই। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রচলিত বিশ্বাসের পাশাপাশি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.