‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন নতুন ঘটনা। কখনও প্রতিযোগীদের মধ্যে বিবাদ, কখনও বন্ধুত্ব, আবার কখনও ব্যক্তিগত জীবনের অজানা কাহিনি। এবার রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চেই নিজের জীবনের এক অত্যন্ত কষ্টের অধ্যায় তুলে ধরলেন প্রতিযোগী রাজবীর দে। ছোটবেলার চরম আর্থিক অনটন থেকে শুরু করে মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা—সবটাই মনামী ঘোষের সামনে ভাগ করে নিলেন তিনি। রাজবীরের মুখে এই অভিজ্ঞতার কথা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মনামীও।
সম্প্রতি ‘বিগ বস বাংলা’র ঘর থেকে বিদায় নিয়েছেন নন্দিনী দত্ত। যদিও তাঁকে সিক্রেট রুমে রাখা হয়েছে, সেই খবর এখনও জানেন না বাড়ির অন্য প্রতিযোগীরা। নন্দিনীর আচমকা চলে যাওয়ায় প্রথমদিকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রাজবীর। সেই সময়ই মনামীর সঙ্গে কথোপকথনে নিজের অতীত জীবনের নানা অজানা ঘটনা তুলে ধরেন তিনি।
রাজবীর জানান, মাত্র ছয় বছর বয়সে, যখন তিনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তেন, তখন আলিপুরদুয়ারের একটি হোস্টেলে থাকতেন। সেই সময় তাঁদের পরিবারে চরম আর্থিক সংকট চলছিল। পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তিও ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে উঠেছিল যে, আর্থিক সমস্যার কারণে বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকী পানীয় ও ব্যবহারের জল নিয়েও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল পরিবারকে।
রাজবীরের কথায়, পারিবারিক অশান্তি এবং পরিস্থিতির চাপে তাঁর বাবা ধীরে ধীরে মানসিক অবসাদে চলে যান। অন্যদিকে, অন্তঃসত্ত্বা মা পরিস্থিতির চাপে আলিপুরদুয়ারে মামাবাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু আত্মসম্মানবোধ এবং অভিমানের কারণে তাঁর বাবা সেখানে যেতে রাজি হননি। একাকী অবস্থায় কঠিন সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি। এরপর ঘটে যায় জীবনের সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা। রাজবীর জানান, তখন তাঁর ছোট ভাইয়ের বয়স মাত্র চার-পাঁচ দিন। মা তাঁকে পড়াচ্ছিলেন। এমন সময় মামা এসে একটি দুঃসংবাদ দেন। পরিস্থিতি বুঝে রাতারাতি গাড়ির ব্যবস্থা করে পরিবারের সদস্যরা শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
শিলিগুড়িতে কাকার বাড়িতে পৌঁছে ছোট্ট রাজবীর দেখেন, পরিবারের প্রত্যেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। মা, কাকিমা এবং দিদাকে কাঁদতে দেখে কিছুই বুঝতে পারছিলেন না তিনি। সেই সময় মামা তাঁকে পাশে ডেকে কানে কানে জানান, তাঁর বাবা আর বেঁচে নেই। বাবাকে হারানোর সেই মুহূর্তের স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি রাজবীর। তাঁর কথায়, খবরটি শোনার পর ছোট্ট বয়সেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। জীবনের সেই রাত তাঁর কাছে ছিল সবচেয়ে বড় ধাক্কা। মাত্র ছয় বছর বয়সেই বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা তাঁর শৈশবকে চিরদিনের মতো বদলে দিয়েছিল।
নন্দিনীর অনুপস্থিতিতে মন খারাপ থাকলেও ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন রাজবীর। তবে বিগ বসের ঘরে তাঁর এই ব্যক্তিগত জীবনের কাহিনি সামনে আসতেই আবেগঘন হয়ে উঠেছে পরিবেশ। অন্যদিকে, সিক্রেট রুমে বসে নন্দিনীও রাজবীর-সহ বাকি প্রতিযোগীদের গতিবিধির উপর নজর রাখছেন। আগামী দিনে নন্দিনীর প্রত্যাবর্তন এবং রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।


Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.