Annapurna Bhandar: রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আর্থিক সহায়তা না পাওয়া বহু মহিলার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে নতুন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। আবেদন বাতিল হওয়া প্রত্যেকটি ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সরকারি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়।
সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার দ্বিতীয় দফার অর্থ উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছানোর পরও বহু আবেদনকারী দাবি করেন, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া এবং দীর্ঘ আবেদনপত্র পূরণ করার পরেও তাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে। অনেকেই অনলাইনে তথ্য জমা দিয়েছিলেন, তবুও কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁরা আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষ করে মেখলিগঞ্জ এলাকায় বিক্ষোভের ঘটনাও সামনে আসে।
মন্ত্রী জানান, এত বড় সংখ্যক মানুষের কাছে অল্প সময়ে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলেছে। সেই কারণে কোথাও কোনও ভুল বা তথ্যগত অসঙ্গতি থেকে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর, যেমন এসিডিও, বিডিও এবং গ্রাম পঞ্চায়েতকে আবেদন বাতিলের কারণ যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যসচিবের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে বলে তিনি জানান।
সরকারের দাবি, প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীদের কোনওভাবেই বঞ্চিত করা হবে না। যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে তথ্য যাচাই করে দেখা হবে আদৌ তাঁরা প্রকল্পের শর্ত পূরণ করেন কি না। যদি দেখা যায় কোনও যোগ্য আবেদনকারী ভুলবশত বাদ পড়েছেন, তাহলে সেই বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর পর প্রথম পর্যায়ে লক্ষাধিক মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পান। পরে দ্বিতীয় কিস্তিতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাঠানো হয়। তবে আবেদনপত্র ও নথি যাচাইয়ের সময় প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদনকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা যায়।
মন্ত্রী আরও জানান, নিয়মিত বা স্থায়ী সরকারি চাকরিতে কর্মরত মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় পড়েন না। এছাড়া যেসব আবেদনপত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি বা প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতি রয়েছে, সেগুলিও বাতিল হতে পারে। তবে শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে আবেদন বাতিল হওয়া নিয়ে যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিস্তারিত সমীক্ষা শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। সরকারের বক্তব্য, প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.