দেশ-কাল-সীমানা ছাপিয়ে যাঁর গান পৌঁছে গিয়েছে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে, তিনি অরিজিৎ সিং। তাঁর কণ্ঠের গভীর আবেগ, বেদনার রেশ আর সরল ব্যক্তিত্ব তাঁকে আজকের দিনে শুধু জনপ্রিয় নয়, বরং এক প্রজন্মের অনুভূতির ভাষা করে তুলেছে। সম্প্রতি কেরিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে প্লেব্যাক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েও চমকে দিয়েছেন তিনি। তবে সংখ্যাতত্ত্বের দৃষ্টিতে দেখলে, অরিজিৎ সিংয়ের এই অনন্য যাত্রার ইঙ্গিত নাকি লুকিয়ে ছিল তাঁর জন্মতারিখেই।
সংখ্যাতত্ত্ব অনুসারে পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের শিল্প, ভাবনা ও জীবনদর্শন সময়ের সীমা ছাড়িয়ে যায়। অরিজিৎ সিং সেই বিরল গোষ্ঠীরই একজন। তাঁর জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৭। সংখ্যাতত্ত্বের নিয়মে জন্মতারিখের সংখ্যা যোগ করলে (২+৫) পাওয়া যায় ৭। অর্থাৎ তাঁর মূলাঙ্ক ৭। আবার যাঁদের জন্ম মাসের ৭, ১৬ বা ২৫ তারিখে, তাঁদের মূলাঙ্কও হয় ৭। সেই হিসেবে অরিজিৎ সিং নিঃসন্দেহে ৭ মূলাঙ্কের জাতক।
সংখ্যাতত্ত্বে মূলাঙ্ক ৭-এর অধিপতি গ্রহ কেতু। কেতু মানেই আধ্যাত্মিকতা, ত্যাগ, অতীত কর্ম এবং মোক্ষের প্রতীক। এই মূলাঙ্কের মানুষেরা সাধারণত অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গভীর চিন্তাশীল হন। তাঁদের ভাবনার স্তর সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি গভীর। তাই জীবনের জাঁকজমক, বাহ্যিক সাফল্য বা মোহ তাঁদের খুব একটা আকৃষ্ট করতে পারে না। অরিজিৎ সিংয়ের জীবনযাপন যেন তারই প্রতিফলন। কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েও তিনি কাজ না থাকলে নিজের গ্রামের বাড়ি জিয়াগঞ্জেই থাকতে ভালোবাসেন। সাধারণ স্কুটিতে চেপে গ্রামের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো তাঁর কাছে বিলাসিতার চেয়েও বেশি স্বস্তির।
মূলাঙ্ক ৭-এর জাতকরা সাধারণত একাকীত্বপ্রিয় এবং অন্তর্মুখী হন। তাঁরা খুব বেশি মানুষের ভিড় বা চর্চার মধ্যে স্বচ্ছন্দ নন। বরং একাকীত্বই তাঁদের সৃজনশীলতার আসল জ্বালানি। সঙ্গীত, সাহিত্য, চিত্রকলা কিংবা গবেষণার মতো ক্ষেত্রেই এই মূলাঙ্কের মানুষেরা অসাধারণ সাফল্য পান। অরিজিৎ সিংয়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, তাঁর গান যেন ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা থেকেই জন্ম নেয়, যা শ্রোতার হৃদয়ে অনায়াসে ছুঁয়ে যায়।
এই সংখ্যার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হল—শো অফ না করা। মূলাঙ্ক ৭-এর মানুষেরা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও মাটিতে পা রেখে চলতে পছন্দ করেন। অকারণ জাঁকজমক, দামি পোশাক বা বিলাসী জীবন তাঁদের আকর্ষণ করে না। তাঁদের সরলতা এবং আত্মস্থতা সমাজে আলাদা সম্মান এনে দেয়। অরিজিৎ সিংয়ের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই দেখা যায়। স্টেজের বাইরে তিনি বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে চেয়েছেন, যা তাঁকে আরও বেশি প্রিয় করে তুলেছে সাধারণ মানুষের কাছে।
সংখ্যাতত্ত্বে ৭ মূলাঙ্ককে জ্ঞানের প্রতীকও বলা হয়। এই মূলাঙ্কের মানুষেরা যে কোনও বিষয়ের গভীরে যেতে চান, শুধু উপরের স্তরে থেমে থাকেন না। তাঁদের মধ্যে এক ধরনের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান কাজ করে, যা জীবনের প্রতি এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। সেই দর্শনই তাঁদের শিল্প, চিন্তা ও কর্মে প্রতিফলিত হয়। অরিজিৎ সিংয়ের গানে প্রেমের পাশাপাশি বিচ্ছেদ, ত্যাগ আর নীরবতার যে সুর, তা এই আধ্যাত্মিক প্রবণতার সঙ্গেই মিলে যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কেন ৭ মূলাঙ্কের মানুষের শিল্প অমর হয়ে থাকে? সংখ্যাতত্ত্ব মতে, এই মূলাঙ্ক সত্য ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে যুক্ত। তাই এই সংখ্যার প্রভাবে তৈরি শিল্প সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। অরিজিৎ সিংয়ের গানও ঠিক তেমনই—আজ নয়, আগামী বহু বছর ধরেও তাঁর কণ্ঠের আবেশ মানুষকে ছুঁয়ে যাবে।
সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে বলা যায়, অরিজিৎ সিং শুধু সাফল্য বা অর্থই অর্জন করেননি। তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং শুভকামনা। আর সেই পথচলার সূচনা নাকি হয়েছিল তাঁর জন্মতারিখেই, ৭ মূলাঙ্কের ছায়ায়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.