ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক অবিস্মরণীয় নাম Asha Bhosle। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশে। যদিও তিনি মূলত হিন্দি চলচ্চিত্রের গানের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, বাংলা গানেও তাঁর অবদান কোনও অংশে কম নয়। বরং বলা যায়, বাংলা সঙ্গীতেও তিনি তৈরি করেছিলেন এক অনন্য স্বাক্ষর।

বাংলা গানে কিংবদন্তিদের সঙ্গে পথচলা
আশা ভোঁসলে বাংলা গানের জগতে কাজ করেছেন একাধিক প্রখ্যাত সুরকার ও শিল্পীর সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য Manna Dey, Hemant Kumar, R. D. Burman এবং Bappi Lahiri।
মান্না দে-র সুরে ‘আমায় তুমি যে ভালোবেসেছো’ বা ‘আমি খাতার পাতায় লিখেছিলাম’—এই গানগুলো আজও শ্রোতাদের আবেগে ভাসায়। অন্যদিকে নচিকেতা ঘোষের সুরে ‘মনের নাম মধুমতী’ কিংবা ‘থুইলাম রে মন পদ্মপাতায়’ গানগুলিও পেয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা।
সত্তরের দশক থেকে নিয়মিত বাংলা গান
১৯৭০-এর দশক থেকে নিয়মিত বাংলা গান গাইতে শুরু করেন আশা। বিশেষ করে R. D. Burman-এর সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল অত্যন্ত সফল। ‘চোখে চোখে কথা বলো’, ‘যেতে দাও আমায় ডেকো না’, ‘মহুয়ায় জমেছে আজ মৌ গো’—এসব গান বাংলা আধুনিক গানের ভান্ডারে আজও অমূল্য সম্পদ।
আর ডি বর্মনের সুরে তাঁর প্রথম বাংলা ছবির গান ছিল ‘রাজকুমারী’ ছবিতে। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি।
বাংলা সিনেমায় আশার সুরেলা উপস্থিতি
বাংলা চলচ্চিত্রেও আশা ভোঁসলের কণ্ঠ ছিল সমান জনপ্রিয়। ‘ত্রয়ী’, ‘একান্ত আপন’, ‘অমানুষ’, ‘আনন্দ আশ্রম’—এমন বহু ছবিতে তাঁর গান দর্শক-শ্রোতাদের মন জয় করেছে।
শ্যামল মিত্র বা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে তাঁর গাওয়া গানগুলিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যেমন—‘দীপ জ্বেলে ওই তারা’ বা ‘ভালোবেসে ডেকেই দেখো না’ আজও নস্টালজিয়ার অংশ।
আধুনিক ও চলচ্চিত্র—দুই ক্ষেত্রেই সমান দাপট
শুধু চলচ্চিত্র নয়, বাংলা আধুনিক গানেও আশা ভোঁসলের প্রভাব ছিল গভীর। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘প্রেম কীসে হয় তা কি কেউ জানে?’ কিংবা ‘ফুল কেন লাল হয়’—এই গানগুলো সময় পেরিয়েও জনপ্রিয়তার শিখরে রয়েছে।
অজয় দাস, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বপন চক্রবর্তী—এমন বহু সুরকারের সঙ্গে কাজ করে তিনি বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন।
উপসংহার
আশা ভোঁসলের কণ্ঠ শুধু ভাষার সীমায় আবদ্ধ ছিল না। হিন্দির পাশাপাশি বাংলা গানেও তিনি যে গভীর ছাপ রেখে গিয়েছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবে। তাঁর গাওয়া বাংলা গানগুলো শুধু সুর নয়, এক একটি সময়ের স্মৃতি—যা কখনও মুছে যাওয়ার নয়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.