মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজো। এই দিনে দেবী সরস্বতীর আরাধনায় মুখর হয়ে ওঠে স্কুল, কলেজ, পাড়া এবং অসংখ্য বাড়ি। দেবী সরস্বতী জ্ঞান, বিদ্যা, শিল্প ও সঙ্গীতের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। পুরাণ মতে, তিনিই বিশ্বকে বাকশক্তি ও সুরের দান করেছেন। তাঁর কৃপায় মানুষের বুদ্ধির বিকাশ ঘটে, সৃজনশীলতা বাড়ে এবং জীবনে আসে সাফল্য ও সমৃদ্ধি।
অনেকেই ঘরে সরস্বতী পুজো করেন। তবে শুধু নিষ্ঠা ও ভক্তি থাকলেই যথেষ্ট নয়—বাস্তুশাস্ত্র মতে দেবীর মূর্তি কোন দিকে রাখা হচ্ছে, তার উপরেও নির্ভর করে পূজার সুফল। ভুল দিকে মূর্তি স্থাপন করলে দেবীবন্দনার ইতিবাচক ফল অনেকাংশে কমে যেতে পারে। তাই বাড়িতে সরস্বতী পুজোর আগে জেনে নেওয়া জরুরি, কোন দিকটি সবচেয়ে শুভ।
পূর্ব দিক: জ্ঞান ও নতুন সূচনার প্রতীক
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী সরস্বতীর মূর্তি রাখার জন্য পূর্ব দিক অত্যন্ত শুভ। এই দিক সূর্যোদয়ের দিক হওয়ায় জ্ঞান, শক্তি ও ইতিবাচকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। সূর্যকে জ্ঞানের উৎস ধরা হয়, আর পূর্ব দিক নতুন সূচনা ও সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। এই দিকে দেবীর মূর্তি রাখলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ে এবং জ্ঞানার্জনে সাফল্য আসে। ছাত্রছাত্রীরা যদি পূর্বমুখী হয়ে পড়াশোনা করে, তবে তা আরও শুভ ফল দেয় বলে বিশ্বাস।
উত্তর দিক: সমৃদ্ধি ও শান্তির দিশা
উত্তর দিককে শান্তি, জ্ঞান ও সমৃদ্ধির দিক বলা হয়। এই দিক দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে যুক্ত, তাই এখানে সরস্বতীর মূর্তি স্থাপন করলে জ্ঞান ও অর্থ—দু’দিকেই শুভ ফল মেলে। বাড়ির সদস্যদের জীবনে আসে স্থিতি ও উন্নতি। এই দিকে দেবীর মূর্তি রেখে প্রতিদিন ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালালে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং সংসারে শুভ পরিবেশ বজায় থাকে।
উত্তর-পূর্ব দিক (ঈশান কোণ): জ্ঞান ও সৃজনশীলতার কেন্দ্র
বাস্তুশাস্ত্রে উত্তর-পূর্ব দিক বা ঈশান কোণকে সর্বাধিক পবিত্র ও শক্তিশালী বলে ধরা হয়। এই দিক জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতার কেন্দ্র। দেবী সরস্বতীর সঙ্গে শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীতচর্চার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই দিকে মূর্তি স্থাপন করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অগ্রগতি হয় এবং সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটে। দেবীর মূর্তির কাছে বই, খাতা বা বাদ্যযন্ত্র রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। সন্তান পড়াশোনায় মন না দিলে, তাকে এই দিকে বসিয়ে পড়ার অভ্যাস করালে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঘরে সরস্বতী পুজোর সময় যদি সঠিক দিকে দেবীর মূর্তি স্থাপন করা যায়, তবে দেবীর আশীর্বাদে জ্ঞান, বিদ্যা ও সাফল্যের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.