গরমের সময়ে বাজার থেকে শাকসব্জি কিনে আনা যত সহজই হোক, নিজের হাতে গাছ লাগিয়ে ফলন পাওয়ার আনন্দ একেবারেই আলাদা। অল্প জায়গা থাকলেও ছাদ, বারান্দা কিংবা উঠোনে টবের মধ্যেই চাষ করা যায় নানা ধরনের সব্জি। সঠিক মাটি, পর্যাপ্ত রোদ আর নিয়মিত যত্ন পেলে গ্রীষ্মকালেও বেশ কিছু সব্জি ভাল ফলন দেয়।
লাউ
গরম থেকে বর্ষা— দীর্ঘ সময় ধরেই লাউয়ের চাষ করা যায়। বিশেষ কিছু জাত গ্রীষ্মকালেও ভাল জন্মায়। লাউ চাষের জন্য ঝুরঝুরে ও উর্বর মাটি প্রয়োজন। মাটিতে গোবর সার মিশিয়ে নিলে গাছ দ্রুত বাড়ে।

শুরুতে ১০-১২ ইঞ্চির টবে চারা বসানো গেলেও গাছ বড় হলে আরও বড় পাত্র দরকার হয়। লাউগাছের শিকড় খুব গভীরে যায় না, তাই জল জমে থাকলে সহজেই পচন ধরতে পারে। সেই কারণে টবের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল হওয়া জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৬ ঘণ্টা রোদ পেলে গাছ সুস্থ থাকে। গরমে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যায় বলে নিয়মিত জল দেওয়াও প্রয়োজন।
বেগুন
বেগুন প্রায় সারা বছরই চাষ করা সম্ভব। গরমের সময় গ্রীষ্মকালীন জাতের চারা ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত তাপ থেকে গাছকে রক্ষা করতে হবে।
দোআঁশ বা এঁটেল-দোআঁশ মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। মাটি নরম ও ঝুরঝুরে হলে শিকড় সহজে ছড়াতে পারে। গাছের বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশযুক্ত সার উপকারী। নিয়মিত জল ও পর্যাপ্ত রোদ পেলে টবের মধ্যেও সহজে বেগুন ফলানো যায়।
কাঁচালঙ্কা
গরমের মরসুমে কাঁচালঙ্কা চাষও বেশ জনপ্রিয়। মে মাস থেকেই টবে চারা বসানো যায়। বেলে-দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি এই গাছের জন্য সবচেয়ে ভাল।
লঙ্কাগাছ বড় হলে প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা সূর্যালোক দরকার হয়। টবে অতিরিক্ত জল জমে থাকলে শিকড় নষ্ট হতে পারে, তাই ড্রেনেজ ব্যবস্থার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। গাছ বড় হয়ে একদিকে হেলে পড়লে ছোট কাঠি বা লাঠির সাহায্যে গাছকে সোজা করে বাঁধা যেতে পারে।
পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে নিম তেলের স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে বছরে একাধিক বার লঙ্কা পাওয়া সম্ভব।
অল্প জায়গাতেও যদি সবুজের ছোঁয়া আনতে চান, তা হলে এই গরমেই শুরু করতে পারেন টবের সব্জি চাষ। যত্ন নিলে নিজের বাগানের টাটকা সব্জিই হয়ে উঠতে পারে গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.