বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও জাঙ্ক ফুডের প্রতি ঝোঁক বহু মানুষের শরীরে নানান জটিল অসুখের কারণ হয়ে উঠছে। তার মধ্যে অন্যতম হল পিত্তথলিতে পাথর জমার সমস্যা। অনেকেই প্রথম দিকে এই রোগের লক্ষণ বুঝতে পারেন না। সামান্য গ্যাস, অম্বল বা হজমের গোলমাল ভেবে দীর্ঘদিন অবহেলা করেন। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না করালে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
চন্দননগরের এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছিল। দীর্ঘদিন ধরে মাঝেমধ্যে পেটের মাঝখানে তীব্র ব্যথা অনুভব করতেন তিনি। কখনও সেই ব্যথা ডান কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে যেত। প্রথমে বিষয়টিকে গ্যাসের সমস্যা ভেবে অ্যান্টাসিড খেয়ে কাটানোর চেষ্টা করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করাতে গিয়ে জানা যায়, তাঁর পিত্তথলিতে পাথর তৈরি হয়েছে এবং অস্ত্রোপচারই একমাত্র উপায়।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণভাবে অনেকে মনে করেন অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবারই এই রোগের প্রধান কারণ। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পিত্তথলির পাথর তৈরি হয় অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের কারণে। যখন লিভার থেকে নিঃসৃত পিত্তরসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং তা স্বাভাবিকভাবে দ্রবীভূত হতে পারে না, তখন ধীরে ধীরে তা জমে পাথরের আকার নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন ময়দা, সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, কেক বা প্যাটিস শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাবে লিভার আরও বেশি কোলেস্টেরল তৈরি করতে শুরু করে। ফলে পিত্তরসের রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং পাথর জমার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এর পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবারের অভাবও বড় কারণ। পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল বা গোটা দানার শস্য না খেলে পিত্তথলি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে পিত্তরস জমতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তা পাথরে পরিণত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবারও এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত বিস্কুট, ভাজাভুজি, প্রসেসড স্ন্যাকস বা ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যাস পিত্তরসের স্বাভাবিক গঠন বদলে দেয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়ার ফলেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে খাসি বা গরুর মাংসে থাকা বেশি ফ্যাট ও খনিজ উপাদান পিত্তথলিতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
সফট ড্রিংকস বা সোডাযুক্ত পানীয়ও এই রোগের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব পানীয়তে থাকা রাসায়নিক উপাদান পাথরের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে।
তবে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চিকিৎসকদের পরামর্শ, অতিরিক্ত চিনি ও ময়দাযুক্ত খাবার কমিয়ে খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল, বাদাম, শাকসবজি এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যেমন অলিভ অয়েল রাখার চেষ্টা করা উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জলপান ও নিয়মিত শরীরচর্চাও অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিত্তথলির পাথর শুধু ব্যথা বা হজমের সমস্যা তৈরি করে না, দীর্ঘমেয়াদে শরীরের সামগ্রিক পরিপাক প্রক্রিয়ার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে হলে এখন থেকেই সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.