গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের তালিকায় টক দইয়ের গুরুত্বও যেন বেড়ে যায়। ভ্যাপসা আবহাওয়ায় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে, হজমশক্তি ভাল রাখতে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে দই বহু দিন ধরেই ভারতীয় রান্নাঘরের ভরসাযোগ্য উপাদান। পুষ্টিবিদদের মতে, টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পাশাপাশি এতে রয়েছে ক্যালশিয়াম, প্রোটিন এবং শরীরকে সতেজ রাখার নানা উপাদান।
শুধু খাবারের শেষে এক বাটি দই খাওয়াতেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ নয়। গরমের দিনে নানা ধরনের সুস্বাদু পদ ও পানীয় তৈরিতেও টক দই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। রোজের খাদ্যতালিকায় সহজেই যোগ করা যায় এমন কয়েকটি জনপ্রিয় পদ রইল।
ঘোল

গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ঘোলের জুড়ি মেলা ভার। দইয়ের সঙ্গে ঠান্ডা জল, বিটনুন, সামান্য চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে সহজেই বানানো যায় এই পানীয়। কেউ কেউ আবার ভাজা জিরেগুঁড়ো মিশিয়েও খান। শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং ক্লান্তি দূর করতে ঘোল অনেকের প্রিয়।
দই বড়া
বিউলির ডালের বড়া ভিজিয়ে তার উপর টক দই ঢেলে তৈরি হয় দই বড়া। উপর থেকে টক-মিষ্টি চাটনি, ভাজা মশলা ও সামান্য লঙ্কাগুঁড়ো ছড়িয়ে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়। গরমে ঠান্ডা ঠান্ডা দই বড়া মুখে স্বস্তি এনে দেয়।
দই মাছ
বাঙালির রান্নাঘরে দই মাছের জনপ্রিয়তা বহু দিনের। হালকা মশলায় রান্না করা এই পদে টক দইয়ের মোলায়েম স্বাদ আলাদা মাত্রা যোগ করে। গরমের দিনে ঝাল-মশলাদার রান্নার বদলে অনেকেই তুলনামূলক হালকা এই পদ খেতে পছন্দ করেন।
দই-ভাত
দক্ষিণ ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার দই-ভাত। সাদা ভাতের সঙ্গে দই মিশিয়ে তার উপর সর্ষে, কারিপাতা, শুকনো লঙ্কা ও চিনাবাদামের ফোড়ন দেওয়া হয়। অনেক সময় বেদানার দানাও ছড়ানো হয় উপরে। গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে এই খাবার বেশ উপকারী।
দই কবাব
বাইরে মুচমুচে আর ভিতরে নরম— এমন দই কবাব সন্ধ্যার জলখাবারে দারুণ মানিয়ে যায়। টক দই, পনির, মশলা ও সামান্য বেসন দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় এই পদ। পুদিনা বা ধনেপাতার চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও জমে ওঠে।
দই চাট
চাটপ্রেমীদের কাছেও দই অত্যন্ত জনপ্রিয়। আলু, ছোলা, পাপড়ি ও ঠান্ডা দই দিয়ে তৈরি দই চাট গরমে বেশ আরাম দেয়। ঝাল, টক আর মিষ্টির মিশেলে এই খাবার একই সঙ্গে মুখরোচক এবং তৃপ্তিদায়ক।
রায়তা
শসা, পেঁয়াজ, পুদিনা কিংবা নানা ফল দিয়ে তৈরি রায়তা গরমের দিনে প্রায় সব বাড়িতেই দেখা যায়। বিরিয়ানি, পোলাও বা ঝাল তরকারির সঙ্গে রায়তা খেলে খাবারের স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনই শরীরেও আসে আরাম। সহজে তৈরি করা যায় বলেই এই পদটি গ্রীষ্মে বিশেষ জনপ্রিয়।