বর্তমান সময়ে অনেকেই অভিযোগ করেন, ভালো রোজগার হওয়া সত্ত্বেও মাসের শেষে হাতে টাকা থাকে না। আবার কেউ কঠোর পরিশ্রম করেও আর্থিক উন্নতির মুখ দেখতে পান না। বাস্তুশাস্ত্র মতে, এর পিছনে বাড়ির ভিতরে কিছু ভুল দিক-নির্ণয় দায়ী হতে পারে। বিশেষ করে টাকা, গয়না বা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখার জায়গা ঠিক না হলে অর্থ স্থায়ী হয় না বলেই মত বাস্তুবিদদের।
বাস্তু অনুসারে, সিন্দুক বা লকার রাখার ক্ষেত্রে সঠিক দিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, নির্দিষ্ট কিছু দিকে টাকা রাখলে ঘরে ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ধনসম্পদ সঞ্চয়ের পথও মসৃণ হয়।
কোন দিক সবচেয়ে শুভ?
উত্তর দিক
বাস্তুশাস্ত্রে উত্তর দিককে সম্পদের দিক হিসেবে ধরা হয়। এই দিকে লকার বা আলমারি রাখলে অর্থভাগ্য উন্নত হতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, উত্তর দিক যেন সবসময় পরিষ্কার ও আলোযুক্ত থাকে। এই অংশে অতিরিক্ত লাল বা হলুদ রঙ ব্যবহার না করাই ভালো।
পশ্চিম দিক
পশ্চিম দিকেও সিন্দুক রাখা শুভ বলে ধরা হয়। তবে একটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ—লকারের দরজা যেন উত্তরমুখী হয়। বাস্তুমতে, এতে অর্থ আগমন ও সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়। এই দিকে লোহার লকার ব্যবহার করা যেতে পারে, যদিও সবুজ ও লাল রঙ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব দিক
দৈনন্দিন খরচের টাকা বা ব্যবসার ক্যাশ রাখার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব দিক উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। এখানে নিয়মিত কিছু নগদ অর্থ রাখলে আর্থিক স্থিতি বজায় থাকে বলে বিশ্বাস। তবে এই অংশে কাঠ বা পাথরের তৈরি লকার ব্যবহার করাই শ্রেয়। নীল ও কালো রঙ ব্যবহার না করাই ভালো।
কোন দিক এড়িয়ে চলবেন?
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু দিক রয়েছে যেখানে টাকা বা মূল্যবান জিনিস রাখলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে।
দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিম: এই দিকে অর্থ রাখলে অযথা খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং প্রয়োজনে সেই টাকা কাজে নাও আসতে পারে।
পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম: সঞ্চিত অর্থ বা গয়না রাখার জন্য এই দিককে অশুভ ধরা হয়।
পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব: এই অংশে লকার রাখলে অর্থনৈতিক উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে মত বাস্তুশাস্ত্রের।
বাড়ির অন্দরসজ্জায় ছোট একটি পরিবর্তনও অনেক সময় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সিন্দুক বা আলমারির অবস্থান একবার মিলিয়ে দেখে নেওয়াই ভালো।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.