কুনজর বা কুদৃষ্টির ভয় থেকে বাঁচতে পায়ে কালো কার বা কালো সুতো পরার রীতি বহু প্রাচীন। গ্রাম থেকে শহর— সব জায়গাতেই শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকের পায়েই দেখা যায় এই কালো সুতো। কেউ এটি পরেন বিশ্বাসের কারণে, আবার কেউ শুধুই ফ্যাশনের জন্য। তবে জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, কালো কার সব রাশির জন্য সমানভাবে শুভ নয়। বরং কিছু কিছু রাশির ক্ষেত্রে এটি উন্নতির বদলে দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে।
জ্যোতিষ মতে, কালো রঙ শনিদেব এবং রাহু-কেতুর প্রতীক। এই গ্রহগুলির প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। সঠিক রাশির ক্ষেত্রে কালো কার কুনজর থেকে রক্ষা করলেও, ভুল রাশির জাতকদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চারটি রাশির জন্য পায়ে কালো কার পরা হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মেষ রাশি:
মেষ রাশির অধিপতি গ্রহ হল মঙ্গল। শাস্ত্র মতে, মঙ্গল ও শনির মধ্যে বৈরী সম্পর্ক রয়েছে। ফলে মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা পায়ে কালো কার পরলে মঙ্গলের নেতিবাচক প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এর ফলে অকারণে রাগ বেড়ে যাওয়া, কাজে মনোযোগের অভাব এবং পারিবারিক কলহের সম্ভাবনা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।
কর্কট রাশি:
চন্দ্রের অধিপত্যে থাকা কর্কট রাশির জাতকরা সাধারণত আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল হন। কালো কার পরলে শনির প্রভাবে তাঁদের মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে। আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো, উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং পারিবারিক শান্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই কর্কট রাশির জাতকদের জন্য কালো সুতো এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
সিংহ রাশি:
সিংহ রাশির অধিপতি সূর্য, আর সূর্য ও শনির সম্পর্ক জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত তিক্ত বলে বিবেচিত। সিংহ রাশির জাতকরা পায়ে কালো কার পরলে কর্মক্ষেত্রে বাধা, সম্মানহানি এবং অপ্রত্যাশিত সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। উন্নতির পথে বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে, যা মানসিক চাপও বাড়ায়।
বৃশ্চিক রাশি:
বৃশ্চিক রাশির ওপর মঙ্গলের প্রভাব প্রবল। এই রাশির জাতকরা কালো কার পরলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। অযথা খরচ বেড়ে যাওয়া, ঋণের বোঝা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে মানসিক অশান্তিও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কোনও প্রতিকার বা তাবিজ ব্যবহারের আগে নিজের রাশি ও গ্রহের অবস্থান বিচার করা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র লোক দেখানো বা ফ্যাশনের কারণে কালো কার পরা সবসময় নিরাপদ নয়। বিশেষ করে মেষ, কর্কট, সিংহ ও বৃশ্চিক রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.