সুপারহিট নায়িকা থেকে করুণ পরিণতি! শেষযাত্রায় ঠাঁই ঠেলাগাড়িতে!

বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকে কত না জানা কাহিনি। রুপোলি পর্দায় সাফল্য, খ্যাতি আর বিপুল অর্থের মালিক হয়েও বাস্তব জীবনে চরম দুর্দশার মুখে পড়েছেন বহু তারকা। তেমনই এক মর্মান্তিক কাহিনি ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ভিমির। একসময় যাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছিল দর্শক, যিনি বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের সঙ্গে কাজ করে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছিলেন, জীবনের শেষ পর্বে সেই অভিনেত্রীকেই ঘিরে তৈরি হয়েছিল নিঃসঙ্গতা ও অবহেলার এক করুণ ছবি।

অভিনেত্রী ভিমির কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল রীতিমতো রাজকীয়ভাবে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর রূপ, নাচ ও গানের প্রতি আগ্রহ ছিল। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর ব্যবসায়ী শিব প্যাটেলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সংসার এবং দুই সন্তানকে নিয়ে জীবন কাটছিল স্বাভাবিক ছন্দে। কিন্তু একটি ফিল্মি পার্টি বদলে দেয় তাঁর জীবনের গতিপথ।

সেই পার্টিতেই প্রখ্যাত পরিচালক বি আর চোপড়ার নজরে আসেন ভিমি। এরপর ১৯৬৭ সালে সুনীল দত্তের বিপরীতে ‘হামরাজ’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। প্রথম ছবিই বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ায় রাতারাতি পরিচিতি বাড়তে থাকে তাঁর। রাজকুমারের মতো তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেও দর্শকের নজর কাড়েন ভিমি। অল্প সময়ের মধ্যেই বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করে নেন তিনি। কথিত আছে, সেই সময় প্রতিটি ছবির জন্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন ভিমি। তৎকালীন সময়ে এই অঙ্ক ছিল যথেষ্ট বড়। জনপ্রিয়তা এবং পারিশ্রমিক—দুইয়ের নিরিখেই বলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

ক্রমশ ফিকে হতে থাকে কেরিয়ারের জৌলুস

তবে সাফল্যের সেই অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একের পর এক ছবির ব্যর্থতা তাঁর কেরিয়ারে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ছবির নির্বাচন এবং পেশাগত সিদ্ধান্ত নিয়েও নানা সমস্যার মুখে পড়েন অভিনেত্রী। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচের অভ্যাস তাঁর আর্থিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনেও শান্তি ছিল না ভিমির। স্বামী শিব প্যাটেলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তী সময়ে প্রযোজক জলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা সামনে আসে। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং কাজের জগতে ক্রমশ পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন অভিনেত্রী।

20261013 104636

শেষ জীবন ঘিরে অন্ধকার অধ্যায়

একসময় যে অভিনেত্রীকে ঘিরে ছিল বলিউডের জৌলুস, জীবনের শেষদিকে সেই ভিমিকেই চরম আর্থিক অনটন ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছিল বলে প্রচলিত রয়েছে। তাঁর শেষ জীবন নিয়ে নানা মর্মান্তিক কাহিনি শোনা যায়। এমনকী, জীবিকার তাগিদে তাঁকে যৌনকর্মীর জীবন বেছে নিতে হয়েছিল বলেও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব রয়েছে। ১৯৭৭ সালের আগস্ট মাসে মুম্বইয়ের একটি ছোট ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ভিমির নিথর দেহ। তাঁর মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের আয়োজন নিয়েও উঠে আসে নানা করুণ বিবরণ। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, শেষযাত্রায় পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষের অভাব ছিল। এমনকী, সাদা কাপড়ে মোড়া তাঁর দেহ ঠেলাগাড়িতে করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।

বনি-কৌশানীর ১১ বছরের প্রেমে চিড়? শিবপ্রসাদের সঙ্গে নায়িকার নাম জড়াতেই মুখ খুললেন অভিনেতা!
বনি-কৌশানীর ১১ বছরের প্রেমে চিড়? শিবপ্রসাদের সঙ্গে নায়িকার নাম জড়াতেই মুখ খুললেন অভিনেতা!

একসময় যে অভিনেত্রী ছিলেন বলিউডের পরিচিত মুখ, তাঁর জীবনের এমন পরিণতি আজও আলোচনার বিষয়। ভিমির কাহিনি মনে করিয়ে দেয়, চলচ্চিত্রের পর্দায় সাফল্য আর বাস্তব জীবনের সুখ এক বিষয় নয়। খ্যাতি ও অর্থ থাকলেও জীবনের কঠিন সময়ে একজন মানুষের পাশে থাকার মতো কাউকে না পাওয়া কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, তাঁর জীবন যেন সেই প্রশ্নই তুলে ধরে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক