হাঁপানি থাকলে কি এগজ়িমার ঝুঁকি বাড়ে? ফুসফুসের প্রদাহ কীভাবে ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে

হাঁপানি সাধারণত শ্বাসযন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই রোগের প্রভাব শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ থাকে না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ফলে ত্বকও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই হাঁপানিতে আক্রান্ত অনেকের মধ্যে পরবর্তী সময়ে এগজ়িমা বা কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের মতো চর্মরোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হাঁপানি ও ত্বকের রোগের মধ্যে সম্পর্ক কোথায়?

হাঁপানি মূলত একটি প্রদাহজনিত অ্যালার্জির রোগ। ধুলো, ধোঁয়া, ফুলের পরাগ, পশুর লোম কিংবা বায়ুদূষণের মতো অ্যালার্জেন শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসনালিতে প্রদাহ বেড়ে যায়। এর ফলে শ্বাসনালি সরু হয়ে আসে, অতিরিক্ত শ্লেষ্মা তৈরি হয় এবং শ্বাস নিতে সমস্যা হয়।

এই প্রদাহ কেবল শ্বাসনালিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রদাহ চলতে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া ত্বকের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায় এবং বাইরের অ্যালার্জেনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। ফল হিসেবে ত্বকে চুলকানি, লালচে র‍্যাশ, শুষ্কতা বা এগজ়িমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হাঁপানি থাকলে কি এগজ়িমার ঝুঁকি বাড়ে? ফুসফুসের প্রদাহ কীভাবে ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে
হাঁপানি থাকলে কি এগজ়িমার ঝুঁকি বাড়ে? ফুসফুসের প্রদাহ কীভাবে ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে

শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি কেন?

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও সম্পূর্ণ পরিণত হয় না। তাই তাদের শরীরে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যদি ছোটবেলায় হাঁপানি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকে বা দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

কোন পরিস্থিতিতে সমস্যা বাড়ে?

মরসুম পরিবর্তন, ধুলোবালির সংস্পর্শ, বায়ুদূষণ, ফুলের রেণু বা পশুর লোম— এসবই হাঁপানির পাশাপাশি ত্বকের সমস্যাও বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক সময় একই ব্যক্তির হাঁপানির উপসর্গের সঙ্গে মুখ, হাত, কনুই বা হাঁটুর পিছনে লালচে বা কালচে র‍্যাশও দেখা যায়।

ওষুধেরও কি ভূমিকা থাকতে পারে?

কিছু ক্ষেত্রে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ বা স্টেরয়েডযুক্ত ইনহেলারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। যদিও এমন সমস্যা সবার ক্ষেত্রে হয় না, তবু কোনও নতুন ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসককে অবশ্যই জানানো উচিত।

কীভাবে ঝুঁকি কমানো সম্ভব?

হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ বা ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে। ত্বকে এগজ়িমা বা অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন বা অন্যান্য ওষুধ দিতে পারেন।
ত্বকের যত্নেও কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। নিয়মিত ত্বক আর্দ্র রাখার চেষ্টা করুন। কোনও প্রসাধনী বা ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহারে অ্যালার্জি হলে তা বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অনেকের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ নারকেল তেল শুষ্ক ত্বকে আরাম দিতে পারে। এছাড়া মধু ও টক দইয়ের মিশ্রণ শুষ্ক ত্বকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, তবে এগুলি ব্যবহারের আগে ত্বকে অ্যালার্জি আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি হাঁপানির পাশাপাশি ত্বকে বারবার র‍্যাশ, তীব্র চুলকানি, ফুসকুড়ি বা শুষ্কতা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে হাঁপানি ও ত্বকের সমস্যা— দুই-ই নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক