ভ্যাপসা গরমে অতিরিক্ত ঘাম কি কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়? জানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

বর্ষাকাল শুরু হলেও দেশের বহু জায়গায় এখনও ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। আর্দ্রতার কারণে অল্প পরিশ্রমেই শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বেরিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, ঘাম হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে যে পরিমাণ জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়, তার ঘাটতি সময়মতো পূরণ না হলে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যেতে পারে।

কেন বাড়ে ঝুঁকি?

গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যাওয়ার পর যদি পর্যাপ্ত জল বা তরল খাবার গ্রহণ না করা হয়, তাহলে জলশূন্যতা দেখা দেয়। এই অবস্থায় কিডনির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে।

ভ্যাপসা গরমে অতিরিক্ত ঘাম কি কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়? জানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ
ভ্যাপসা গরমে অতিরিক্ত ঘাম কি কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়? জানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

কিডনির প্রধান কাজ হল রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বের করে দেওয়া। এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চালাতে পর্যাপ্ত জলের প্রয়োজন হয়। শরীরে জলের অভাব হলে রক্তপ্রবাহও কিছুটা কমে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়ে কিডনির কার্যক্ষমতার উপর।

কীভাবে তৈরি হয় কিডনিতে পাথর?

শরীরে পর্যাপ্ত জল না থাকলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং তা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘন হয়ে ওঠে। তখন প্রস্রাবে থাকা ক্যালশিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিডের মতো বিভিন্ন খনিজ ও রাসায়নিক পদার্থ সহজে জমাট বাঁধতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে এগুলিই কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ হতে পারে।

শুধু পাথর নয়, আরও কী সমস্যা হতে পারে?

দীর্ঘদিন ধরে শরীরে জলশূন্যতা থাকলে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে প্রস্রাবের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার অভ্যাস থাকলে স্থায়ী কিডনি সমস্যার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন?

*সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
*অতিরিক্ত ঘাম হলে ওআরএস, ডাবের জল বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তরল পানীয় খেতে পারেন।
*প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়, তবে তা জল কম খাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
*দীর্ঘ সময় রোদে বা গরমে কাজ করলে নিয়মিত বিরতি নিয়ে জল পান করুন।
*কিডনিতে পাথর বা কিডনির অন্য সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দৈনিক জলের পরিমাণ ঠিক করুন।

অতিরিক্ত জলও কি ক্ষতিকর?

শুধু কম জল খাওয়াই নয়, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জল পান করাও সবসময় উপকারী নয়। একজন মানুষের বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী জলের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে পরিমিত ও প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক