প্রাক্তন মিস পুণে তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উঠতে শুরু করে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার তদন্ত এতদিন ভোপাল পুলিশের হাতে থাকলেও এবার সেই মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র দপ্তর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই সংবেদনশীল মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই সিবিআই তদন্তের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার।
তিশা শর্মা উচ্চশিক্ষিত এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। বিবিএ ও এমবিএ সম্পূর্ণ করার পর তিনি মুম্বই এবং দিল্লির একাধিক সংস্থায় কাজ করেছেন। পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাতেও সাফল্য পান এবং ‘মিস পুণে’ খেতাব অর্জন করেন। অভিনয় জগতেও তাঁর পদার্পণ হয়েছিল; একটি তেলুগু ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আইনজীবী সম্রাট সিংয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই সম্পর্ক পরবর্তীতে বিয়েতে গড়ায়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ।
তিশার পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে মানসিক চাপ ও নির্যাতনের শিকার হন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি মায়ের কাছে বারবার নিজের বাড়িতে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। এমনকি নয়ডায় ফেরার জন্য টিকিটও কেটে রেখেছিলেন বলে পরিবারের দাবি। তাঁর পাঠানো কিছু মেসেজেও মানসিক অশান্তির ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী গলায় ফাঁস লাগার কারণেই তিশার মৃত্যু হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, এর পিছনে দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন এবং পণের দাবিতে চাপ সৃষ্টি কাজ করে থাকতে পারে। তাঁরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।
এই পরিস্থিতিতে সিবিআই তদন্ত কতটা নতুন তথ্য সামনে আনতে পারে এবং তিশার পরিবার আদৌ ন্যায়বিচার পাবে কি না, তা নিয়েই এখন দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.