ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব দোল পূর্ণিমা। বৈষ্ণব মতে, এই দিন বৃন্দাবনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও গোপীদের সঙ্গে রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকেই দোল খেলার সূচনা।
এই তিথিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন চৈতন্য মহাপ্রভু। তাই দোল পূর্ণিমা গৌর পূর্ণিমা নামেও পরিচিত।
২০২৬ সালে দোল উৎসব পালিত হবে ৮ মার্চ। দোল বা হোলি মন্দের ওপর ভালোর জয়ের প্রতীক। আগের দিন ন্যাড়াপোড় (হোলিকা দহন) করা হয় এবং পরের দিন রঙের উৎসবে মেতে ওঠেন সকলে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই শুভ তিথিতে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জীবনের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
অর্থ সমস্যার সমাধান
যদি পরিবারে আর্থিক সঙ্কট দেখা দেয়, তবে দোলের দিন নারায়ণ ও মাতা লক্ষ্মীর মন্দিরে গিয়ে ভক্তিভরে পূজা করুন। সহস্রনাম পাঠ করে নিজের সমস্যার কথা প্রার্থনায় ব্যক্ত করুন। এরপর সামর্থ্য অনুযায়ী পশু ও দুঃস্থদের দান করুন। বিশ্বাস করা হয়, এতে অর্থভাগ্য সুদৃঢ় হয় এবং সংসারে স্থিতি আসে।
পারিবারিক অশান্তি দূর করতে
জীবনে একের পর এক সমস্যা দেখা দিলে দোলের রাতে বাড়ির প্রধান দরজায় সরিষার তেলের চারমুখী প্রদীপ জ্বালান। প্রদীপের আলোয় ভগবানের কাছে সমস্ত বাধা দূর করার প্রার্থনা করুন। এই আচার নেতিবাচক শক্তি দূর করে ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটায় বলে মনে করা হয়।
অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধের উপায়
অকারণ অর্থ ব্যয় বন্ধ করতে দোলের আগের দিন বাড়ির প্রধান দরজায় আবির ছিটিয়ে তার উপর দ্বিমুখী প্রদীপ জ্বালান। প্রদীপ জ্বালিয়ে আর্থিক ক্ষতির কথা মনে মনে বলুন। পরে প্রদীপ নিভিয়ে তা ন্যাড়াপোড়ের আগুনে অর্পণ করুন। বিশ্বাস করা হয়, এতে অযথা ব্যয় কমে।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতা দূর করতে
পরিবারে কেউ দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে দোলের দিন খালি পান, লাল গোলাপ ও বাতাসা নিয়ে ৩১ বার রোগীর উপর দিয়ে ঘুরিয়ে নিন। এরপর নির্জন কোনও মোড়ে সেগুলি রেখে আসুন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এতে ধীরে ধীরে রোগীর অবস্থার উন্নতি হতে পারে।
আরও পড়ুন:হোলি বাস্তু টিপস ২০২৬: এই ৫ জিনিস ঘরে আনলেই খুলবে সমৃদ্ধির দ্বার
কু-প্রভাব বা টোটকা নিষ্ক্রিয় করতে
যদি মনে হয় কারও কু-দৃষ্টি বা টোটকার প্রভাব রয়েছে, তবে দোলের রাতে ন্যাড়াপোড়ের স্থানে একটি ছোট গর্ত করে ১১টি কড়ি পুঁতে দিন। পরদিন সেই কড়িগুলি তুলে নীল কাপড়ে বেঁধে জলে বিসর্জন করুন। এই প্রথা অশুভ শক্তি দূর করতে সহায়ক বলে ধরা হয়।
দোল পূর্ণিমা শুধু রঙের উৎসব নয়, এটি আধ্যাত্মিক শক্তি জাগরণেরও সময়। ভক্তি, প্রার্থনা ও সদাচরণের মাধ্যমে এই পবিত্র দিনে জীবনের জটিল সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যায়—এমনটাই বিশ্বাস করেন অনেকে।
রঙের আনন্দের সঙ্গে থাকুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য।
(Disclaimer: এখানে দেওয়া তথ্য জ্যোতিষশাস্ত্রের সাধারণ বিশ্বাস ও তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। সংবাদ ভবন এটি নিশ্চিৎ করে না।)

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.