বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথেই জীবনের শেষ অধ্যায় লেখা হয়ে গেল। হায়দরাবাদের বাসিন্দা এবং অভিজ্ঞ পর্বতারোহী অরুণকুমার তিওয়ারির মরদেহ আর দেশে ফিরিয়ে আনা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর পরিবার। তাঁদের বিশ্বাস, এভারেস্টই ভগবান শিবের পবিত্র আবাসভূমি, তাই সেখানেই চিরশায়িত থাকবেন অরুণ।
গত ২১ মে এভারেস্টের চূড়া থেকে নামার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ৫৩ বছর বয়সি অরুণ। শৃঙ্গের নীচে অবস্থিত হিলারি স্টেপ অঞ্চলের কাছাকাছি তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযানের সময় তাঁকে সহায়তা করছিলেন একাধিক শেরপা। কিন্তু পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম ও বিপজ্জনক উচ্চতায় মৃত্যুর পর মরদেহ উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ব্যয়ের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং অরুণের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, প্রকৃতিপ্রেম এবং পর্বতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কথাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মতে, হিমালয় ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় আবেগ। তাই তাঁর শেষ আশ্রয়ও সেই পর্বতশ্রেণিতেই হওয়া উচিত।
অরুণের এক আত্মীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এভারেস্ট ভগবান শিবের সঙ্গে জড়িত এক পবিত্র স্থান। সেই কারণেই তাঁরা মনে করেন, সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকাটা অরুণের জন্য সম্মানের। পাশাপাশি এত উচ্চতা থেকে মরদেহ নামিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় দেহের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া, তীব্র ঠান্ডা, কম অক্সিজেন এবং প্রাণঘাতী ঝুঁকির কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক।
পর্বতারোহণ জগতে অরুণ ছিলেন পরিচিত নাম। এর আগে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত শৃঙ্গ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। রাশিয়ার এলব্রাস, উত্তর আমেরিকার ডেনালি এবং দক্ষিণ আমেরিকার অ্যাকনকাগুয়ার মতো কঠিন পর্বতও সফলভাবে আরোহণ করেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখতেন।
গত বছরও তিনি এভারেস্ট অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তবে শারীরিক সমস্যার কারণে প্রায় ৭,২০০ মিটার উচ্চতা থেকে তাঁকে ফিরে আসতে হয়। সেই অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলতি বছর আবার অভিযানে যোগ দেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ স্পর্শ করতে সক্ষম হলেও ফেরার পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।
অরুণের পরিবারে স্ত্রী এবং দুই কন্যা রয়েছেন। শোকের আবহের মধ্যেও তাঁরা বিশ্বাস করেন, যে মানুষটি সারাজীবন পাহাড়কে ভালোবেসেছেন, তাঁর শেষ ঠিকানাও সেই পাহাড়ের কোলে হওয়াটাই সবচেয়ে অর্থবহ। তাই পরিবারের সিদ্ধান্ত— অরুণকুমার তিওয়ারির মরদেহ এভারেস্টেই থেকে যাবে, যেখানে তিনি নিজের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন।
এক অর্থে বলা যায়, স্বপ্নের শিখরে পৌঁছে তিনি আর ফিরে আসেননি। জীবনের শেষ যাত্রায় তিনি রয়ে গেলেন সেই পর্বতের বুকে, যাকে জয় করার জন্য বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.