তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন অভিনেতা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি জনপ্রিয় নাম ‘থলপতি বিজয়’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। প্রথমবার নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিয়েই তাঁর দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম’ বিপুল সাফল্য পেয়ে রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ যেখানে ভেবেছিল নতুন দল হিসেবে তারা কেবল শক্ত অবস্থান তৈরি করবে, সেখানে ভোটের ফল সম্পূর্ণ বদলে দিল সমীকরণ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিনেমার জনপ্রিয়তাকে বাস্তবের রাজনৈতিক মাটিতে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন বিজয়। নির্বাচনের আগে তাঁকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কখনও তাঁর সিনেমা নিয়ে সেন্সর জটিলতা, কখনও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জল্পনা—সব মিলিয়ে চাপের মুখে ফেলতে চেয়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু সেসবকে কার্যত উপেক্ষা করেই জনসমর্থনের ঢেউ তুলেছেন এই অভিনেতা-রাজনীতিক।
বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা কিন্তু আচমকা শুরু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ভক্ত সংগঠনগুলি সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিভিন্ন এলাকায় রক্তদান শিবির, ত্রাণ বিতরণ বা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। ফলে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক প্রবেশের আগেই জনসংযোগের মজবুত ভিত তৈরি হয়ে গিয়েছিল তাঁর।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় শুরু হয় ২০২০ সালে। সেই সময় বিজয়ের অনুমতি ছাড়াই তাঁর বাবা এস এ চন্দ্রশেখর এবং মা শোভা চন্দ্রশেখর ‘বিজয় মাক্কাল আইয়াক্কাম’ নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন নিবন্ধিত করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিনেতা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওই দলের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, নিজের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন বিজয়। মামলায় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সেই সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল, কারণ কোনও জনপ্রিয় অভিনেতার নিজের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে এমন আইনি পদক্ষেপ বিরল বলেই মনে করা হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই নিজের রাজনৈতিক পথ আলাদা করে তৈরি করতে শুরু করেন বিজয়। লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম’ গঠনের ঘোষণা করেন। এরপর গত কয়েক বছরে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে সংগঠনকে শক্তিশালী করেন। ছোট শহর, গ্রামাঞ্চল এবং স্থানীয় স্তরে জনসংযোগ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রচারে তিনি নিজেকে শুধুমাত্র তারকা হিসেবে নয়, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি এবং সামাজিক ন্যায়ের মতো ইস্যু। সিনেমার সংলাপের মতোই তাঁর রাজনৈতিক ভাষণও দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।
এই নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, তামিলনাড়ুর ভোটারদের এক বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। প্রথমবার নির্বাচনে নেমেই সরকার গঠনের মতো সাফল্য ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে। আর সেই কারণেই থলপতি বিজয়ের এই উত্থান এখন শুধু সিনেমা বা রাজনীতির গল্প নয়, বরং দক্ষিণ ভারতের জনমানসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.