আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই চিকিৎসার খরচ মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে—এমনই উদ্বেগজনক ইঙ্গিত দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবা শুধু ব্যয়বহুলই হবে না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ হলো অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করছেন। আবার অনেক সময় চিকিৎসার প্রয়োজন না থাকলেও এই ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলেই তৈরি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ ক্ষমতা।
এই পরিস্থিতিতে মানবদেহে এমন ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি হচ্ছে, যেগুলি সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ফলে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে না। এর ফলে রোগ সারতে সময় বেশি লাগছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনও বাড়ছে।
শুধু তাই নয়, রোগীদের হাসপাতালে দীর্ঘদিন থাকতে হতে পারে, যা চিকিৎসার মোট খরচকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। এই আর্থিক চাপ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর। অনেকের পক্ষেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।
একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)-এর কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর হার প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই প্রবণতা যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা ভবিষ্যতে এক বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞরা এখনই সতর্ক করছেন—অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। না হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা শুধু কঠিনই হবে না, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেও চলে যেতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.