বাজারের ফেসওয়াশ নয়, ত্বকের ধরন বুঝে ঘরেই বানান প্রাকৃতিক ক্লিনজার

দিনভর ধুলো, দূষণ, ঘাম এবং অতিরিক্ত তেলের কারণে ত্বকের উপর নানা ধরনের ময়লা জমে। তাই বাড়ি ফিরে মুখ পরিষ্কার করা দৈনন্দিন ত্বকচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অনেকেই এই কাজে বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ফেসওয়াশ ব্যবহার করেন। তবে অনেক পণ্যে সালফেট, প্যারাবেন, কৃত্রিম সুগন্ধি বা অন্য রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল বা শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
এই কারণে অনেকেই এখন ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে নিজস্ব ফেসওয়াশ তৈরি করার দিকে ঝুঁকছেন। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ক্লিনজার ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও আর্দ্রতাও বজায় থাকে। তবে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা জরুরি—সব ধরনের ত্বকের জন্য একই ফেসওয়াশ উপযুক্ত নয়। ত্বকের ধরন বুঝে উপকরণ নির্বাচন করলেই মিলতে পারে সবচেয়ে ভালো ফল।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য

বাজারের ফেসওয়াশ নয়, ত্বকের ধরন বুঝে ঘরেই বানান প্রাকৃতিক ক্লিনজার
বাজারের ফেসওয়াশ নয়, ত্বকের ধরন বুঝে ঘরেই বানান প্রাকৃতিক ক্লিনজার

তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত সেবাম জমে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও র‌্যাশের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এমন উপাদান প্রয়োজন, যা ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি অতিরিক্ত তেলও নিয়ন্ত্রণ করবে।
এ জন্য ২ চামচ বেসন, আধ চা-চামচ নিমপাতার গুঁড়ো বা পুদিনাপাতা বাটা, সামান্য হলুদ এবং প্রয়োজনমতো গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মুখে আলতোভাবে মালিশ করে কয়েক মিনিট রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বেসন ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে সাহায্য করে, আর হলুদ ও নিমের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য
শুষ্ক ত্বক পরিষ্কার করার পরে অনেক সময় টানটান লাগে বা খসখসে হয়ে যায়। তাই এমন উপাদান ব্যবহার করা উচিত, যা ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি আর্দ্রতাও ধরে রাখে।
এক চামচ ওটসের গুঁড়ো, এক চামচ মধু এবং এক চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এটি মুখ ও গলায় বৃত্তাকারে আলতো হাতে মালিশ করে ধুয়ে ফেলুন। ওটস মৃদু এক্সফোলিয়েটরের কাজ করে, আর মধু ও দুধ ত্বককে কোমল ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য
যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল, তাদের এমন উপাদান ব্যবহার করা উচিত যা সহজে জ্বালা বা অ্যালার্জির কারণ না হয়।
এই ধরনের ত্বকের জন্য ২ চামচ তাজা অ্যালো ভেরা জেল, ২ চামচ ঠান্ডা করা গ্রিন টি এবং ২ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে একটি হালকা ক্লিনজার তৈরি করা যেতে পারে। আগে গ্রিন টি তৈরি করে সম্পূর্ণ ঠান্ডা করুন, তারপর অ্যালো ভেরা জেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। মুখে কয়েক মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালো ভেরা ত্বককে শান্ত রাখতে সাহায্য করে, আর গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের সতেজতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যবহারের আগে যা মনে রাখবেন
ঘরোয়া ফেসওয়াশ তৈরি করলেও নতুন কোনও উপাদান ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পিছনে অল্প করে লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো। কোনও রকম জ্বালা, চুলকানি বা অস্বস্তি হলে সেই উপাদান ব্যবহার না করাই নিরাপদ। এছাড়া প্রতিবার সম্ভব হলে নতুন করে মিশ্রণ তৈরি করুন, যাতে উপাদানের গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক উপাদান বেছে নিয়ে নিয়মিত যত্ন নিলে রাসায়নিকের উপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবেই ত্বক পরিষ্কার, কোমল ও সতেজ রাখা সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক