পুজোর ই-পাস দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার ইডির জেরার পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরনোর সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। আর এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় খুশি সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এবার তাঁর গ্রেপ্তারির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঋদ্ধি বলেন, ‘যে যা করবে, সে তার ফল এ জীবনেই পেয়ে যাবে।’
ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির খবর সামনে আসতেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ফোনে তিনি বলেন, “আমি মনে করি যে যা করবে, সে তার ফল এ জীবনেই পেয়ে যাবে। এই গ্রেপ্তারে আমি খুশি।” উল্লেখ্য, এর আগেও তৎকালীন রাজ্য সরকারের আমলে সঙ্গীতজগতে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা মুখোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজন শিল্পী। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সঙ্গীতজগতেও সিন্ডিকেটরাজ চলত। এমনকী, মঞ্চে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাওয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে।
মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে গিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক সঙ্গীতশিল্পী। তাঁদের অভিযোগ ছিল, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিল্পী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন। মঞ্চে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাওয়া নিয়েও পক্ষপাতিত্ব এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁরা। এবার ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর সেই পুরনো ক্ষোভই আরও একবার প্রকাশ্যে আনলেন ঋদ্ধি। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সঙ্গীতজগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক স্তরেও কাজ করেছেন। তা সত্ত্বেও যদি কোনও শিল্পীকে নির্দিষ্ট মহলের বিরাগভাজন হওয়ার কারণে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়, তাহলে নতুনদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ঋদ্ধির কথায়, “বিগত সরকারে থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেন এবং আরও কিছু মানুষ তাঁদের ক্ষমতার স্বার্থে এমন কিছু কাজ করেছেন। আমার মনে হয়, আমি ২৬ বছর ধরে ‘ইন্ডাস্ট্রি’তে আছি, আমি ‘ইন্টারন্যাশনালি’ কাজ করি। আমার সঙ্গে যদি এই ঘটনা ঘটে, সব জায়গায় ব্যান করা, আমি হল পাব না সরকারের। তাহলে গ্রামগঞ্জ থেকে যে সব ছেলেমেয়েরা কাজ করতে আসবে, তারা ‘অ্যাজেন্ডা মেকআপ’ না করতে পারলে তাদের অবস্থা কী হবে।”
ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গে শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীকেই নয়, পূর্বতন সরকারের কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, প্রশাসনের শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের আশপাশে থাকা একাংশের মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা রাজ্যের উপর। ঋদ্ধি বলেন, “আজকে যে রাজ্যের অবস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, এগুলোই তার অন্যতম কারণ। যিনি প্রশাসনে-চেয়ারে থাকবেন, তাঁর চারপাশে যে চাটুকারদের দল ঘুরঘুর করবে নিজেদের ধান্দার জন্য। এটা আমাদের আগের মুখ্যমন্ত্রীর ভাবা উচিত ছিল।”
একসময় রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন ইন্দ্রনীল সেন। কলকাতায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই সঙ্গীতশিল্পী রাজনীতির ময়দানেও পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে এবার পুজোর ই-পাস সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তারির জেরে তিনি খবরের শিরোনামে। অভিযোগ, পুজোর ই-পাস বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেনের যোগ রয়েছে। বুধবার সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরনোর সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া নতুন করে সঙ্গীতজগতের পুরনো অভিযোগগুলিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে মামলার অভিযোগ এবং তার আইনি নিষ্পত্তির বিষয়টি তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার উপরই নির্ভরশীল।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.
