সামনেই দীপাবলি, তার আগে করুন এই ৮ কাজ! উপচে পড়বে ধনদৌলত

দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। সামনে দীপাবলি, তারপর ভাইফোঁটা। আলোর উৎসব দীপাবলি ঘিরে প্রতিটি বাড়িতেই থাকে সাজসজ্জা, পুজো এবং নতুন করে সুখ-সমৃদ্ধির কামনা। এই বিশেষ দিনে অনেকেই দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দীপাবলিতে দেবী লক্ষ্মীর পুজো করলে পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।

কালীপুজোর দিন বহু বাড়িতে পালিত হয় দীপান্বিতা লক্ষ্মীপুজো। ২০২৬ সালে ৮ নভেম্বর এই পুজো পালিত হওয়ার কথা। এই উৎসবকে সামনে রেখে অনেকেই বাড়িঘর পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে শুধু ঘর সাজানোই নয়, বাস্তুশাস্ত্রের কিছু নিয়মও মেনে চলেন অনেকে। প্রচলিত বাস্তু বিশ্বাস অনুযায়ী, দীপাবলির আগে কয়েকটি বিশেষ কাজ করলে বাড়িতে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। জেনে নিন, কোন ৮টি বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে।

১. দীপাবলির আগে পরিষ্কার করুন বাড়ির প্রতিটি কোণ
দীপাবলির আগে বাড়িঘর পরিষ্কার করার রীতি বহুদিনের। বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো পরিবেশ এড়িয়ে চলা উচিত। তাই বাড়ির প্রতিটি ঘর ভালো করে পরিষ্কার করুন। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অব্যবহৃত জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলুন। ঘরের মেঝে, জানলা, দরজা এবং আসবাবপত্র পরিষ্কার রাখুন। এতে বাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর থাকবে।

২. বাড়ির উত্তর দিক রাখুন পরিচ্ছন্ন
বাস্তুশাস্ত্রে উত্তর দিককে সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবতা কুবেরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। সেই কারণে দীপাবলির আগে বাড়ির উত্তর দিক পরিষ্কার ও গোছানো রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই অংশে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে না রাখাই ভালো। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির এই দিক পরিচ্ছন্ন রাখলে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে।

৩. উত্তর-পূর্ব দিকে তৈরি করুন পুজোর স্থান
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিককে পুজো ও আধ্যাত্মিক কাজের জন্য শুভ বলে মনে করা হয়। তাই বাড়িতে জায়গা থাকলে এই দিকে পরিষ্কার একটি পুজোর স্থান তৈরি করতে পারেন। উঁচু বেদির উপর দেবী লক্ষ্মী ও গণেশের মূর্তি স্থাপন করে পুজোর ব্যবস্থা করুন। পুজোর স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন।

৪. মূল দরজা সাজিয়ে তুলুন রঙ্গোলিতে
দীপাবলিতে বাড়ির প্রবেশপথ সাজানোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই উৎসবে অনেকেই বাড়ির দরজার সামনে রঙিন রঙ্গোলি আঁকেন। কেউ চালের গুঁড়ো ব্যবহার করেন, আবার কেউ বিভিন্ন রঙের সাহায্যে তৈরি করেন নকশা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন প্রবেশপথ শুভ শক্তিকে স্বাগত জানানোর প্রতীক। তাই দীপাবলির আগে বাড়ির মূল দরজার আশপাশ পরিষ্কার করে রঙ্গোলি দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারেন।

৫. মূল দরজায় লাগান ফুল ও পাতার তোরণ
উৎসবের সাজসজ্জায় ফুলের ব্যবহার বরাবরই জনপ্রিয়। দীপাবলির আগে বাড়ির মূল দরজায় আমপাতা ও গাঁদা ফুলের তোরণ লাগাতে পারেন। এতে বাড়ির প্রবেশপথে উৎসবের আমেজ তৈরি হবে। তবে ফুল ও পাতা শুকিয়ে গেলে তা বদলে দেওয়ার চেষ্টা করুন। পরিষ্কার ও সতেজ সাজসজ্জা বাড়ির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলবে।

৬. অন্ধকার কোণেও জ্বালান আলো
দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। এই দিনে বাড়ির বিভিন্ন অংশ প্রদীপ, মোমবাতি কিংবা বৈদ্যুতিক আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলেন অনেকে। বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, বাড়ির অন্ধকার কোণগুলিতে আলো রাখাকে শুভ বলে মনে করা হয়। তবে সাজসজ্জার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখুন। পর্দা, কাগজ কিংবা দাহ্য বস্তু থেকে প্রদীপ দূরে রাখুন। বাড়িতে ছোট শিশু বা পোষ্য থাকলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন।

৭. পুজোর স্থানে রাখুন জলপূর্ণ কলস
পুজোর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে জলপূর্ণ কলস ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। দীপাবলির পুজোর সময়ও পরিষ্কার জলভর্তি কলস রাখতে পারেন। অনেক পরিবারে পুজো শেষে সেই জল বাড়ির বিভিন্ন অংশে ছিটিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। এটি মূলত ধর্মীয় ও পারিবারিক বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রথা। পুজোর জন্য ব্যবহৃত পাত্র ও জল পরিষ্কার রাখা জরুরি।

৮. বাড়িতে রাখুন তুলসী বা মানিপ্ল্যান্ট
বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়িতে সুস্থ ও সতেজ গাছ রাখা ইতিবাচক পরিবেশের প্রতীক। তাই বাড়ির উপযুক্ত জায়গায় তুলসী গাছ কিংবা মানিপ্ল্যান্ট রাখতে পারেন। তুলসী গাছের পরিচর্যা করুন এবং নিয়মিত শুকনো পাতা সরিয়ে দিন। গাছের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত আলো ও প্রয়োজনীয় জল নিশ্চিত করুন। বাড়ির পূর্ব অথবা উত্তর-পূর্ব দিকে গাছ রাখার পরামর্শও দিয়ে থাকে বাস্তুশাস্ত্রের বিভিন্ন নির্দেশিকা।

বক্রী বুধের প্রভাবে আগামী ৩৭ দিন গোল্ডেন টাইম! চাকরি, ব্যবসা ও অর্থলাভের সম্ভাবনা ৬ রাশির
বক্রী বুধের প্রভাবে আগামী ৩৭ দিন গোল্ডেন টাইম! চাকরি, ব্যবসা ও অর্থলাভের সম্ভাবনা ৬ রাশির

দীপাবলির আগে এই কাজগুলি কেন করবেন?
দীপাবলির আগে বাড়ি পরিষ্কার করা, প্রবেশপথ সাজানো, প্রদীপ জ্বালানো এবং পুজোর প্রস্তুতি নেওয়া বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। বাস্তুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই কাজগুলি বাড়িতে শুভ পরিবেশ ও সমৃদ্ধির কামনার সঙ্গে যুক্ত। তবে এই নিয়মগুলি মানলেই যে নিশ্চিতভাবে অর্থসম্পদ বাড়বে, তার কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং পরিবারের সকলের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই উৎসবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক