জামাইষষ্ঠীর এলাহি ভোজের পরের দিন সাধারণত অনেকেরই মন চায় একটু হালকা খাবারের দিকে। এক দিনের জমকালো খাওয়াদাওয়ার পরে অতিরিক্ত ঝাল, তেল বা মশলাদার পদ খেতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু তাই বলে রবিবারের দুপুরের খাবার একেবারে নিরামিষ ও নিরস হবে, এমনটাও নয়। স্বাদ এবং হালকাপনার মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য রাখতে চাইলে পাতে রাখতে পারেন পটলের দম।
বাংলার রান্নাঘরে পটল একটি অত্যন্ত পরিচিত সবজি। সঠিক মশলার ব্যবহার এবং রান্নার কৌশলে এই সাধারণ সবজিই হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ এক পদ। বিশেষ করে দই, আদা, জিরে ও ধনের সুবাসে তৈরি পটলের দম ভাতের সঙ্গে খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনই তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য।
এই রান্নার জন্য প্রথমে পটল ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। দুই প্রান্ত সামান্য কেটে নিয়ে সর্ষের তেলে হালকা করে ভেজে রাখতে হবে। এতে পটলের স্বাদ আরও ভালোভাবে ফুটে ওঠে এবং রান্নার সময় সহজে ভেঙেও যায় না।

এর পর একই তেলে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, গোটা জিরে, এলাচ, লবঙ্গ ও দারচিনি ফোড়ন দিয়ে নিতে হবে। ফোড়নের সুবাস বেরোতে শুরু করলে আদা-লঙ্কাবাটা যোগ করে কিছুক্ষণ নাড়তে হবে। এরপর জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, হলুদ এবং সামান্য লঙ্কাগুঁড়ো দিয়ে মশলা ভালোভাবে কষিয়ে নিতে হবে।
মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে ফেটানো টক দই মিশিয়ে দিতে হবে। সামান্য জল দিয়ে কয়েক মিনিট কষানোর পর স্বাদ অনুযায়ী নুন ও অল্প চিনি যোগ করা যেতে পারে। তারপর প্রয়োজনমতো জল ঢেলে ঝোল তৈরি করতে হবে।
ঝোল ফুটে উঠলে আগে থেকে ভেজে রাখা পটল কড়াইয়ে দিয়ে আরও কয়েক মিনিট রান্না করতে হবে। পটল মশলার স্বাদ টেনে নিলে শেষে গরমমশলা গুঁড়ো ও সামান্য ঘি ছড়িয়ে আঁচ বন্ধ করে দিতে হবে।
তৈরি হয়ে যাবে সুগন্ধি পটলের দম। গরম ভাতের সঙ্গে এই পদ পরিবেশন করলে একদিকে যেমন স্বাদে তৃপ্তি মিলবে, অন্যদিকে ভারী খাবারের পর পেটেও অস্বস্তি হবে না। তাই উৎসবের পরের দিনের মধ্যাহ্নভোজে এই নিরামিষ পদ হতে পারে পরিবারের সকলের জন্য উপযুক্ত পছন্দ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.