নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিগেড ময়দানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন প্রাক্তন সংবাদপাঠিকা ও সঞ্চালিকা মধুমন্তী মৈত্র।
দীর্ঘদিন পর তাঁকে বড় মঞ্চে দেখে অনেকেই প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন সমাজমাধ্যমে। তবে এই প্রশংসা পেয়ে আবেগপ্রবণ হলেও নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথাও সামনে এনেছেন তিনি। মধুমন্তীর কথায়, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করা তাঁর কাছে নতুন নয়। অতীতেও বহুবার এমন দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তবে শুভেন্দুর শপথ অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগে থেকে নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা বা বিস্তারিত সূচি তাঁর হাতে ছিল না। ফলে পরিস্থিতি বুঝে তাৎক্ষণিকভাবেই অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে হয়েছে।
তিনি জানান, ব্রিগেড ময়দান রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য পরিচিত হলেও এত বড় প্রশাসনিক অনুষ্ঠানের জন্য জায়গাটি খুব সুবিধাজনক নয়। সময়ের অভাব এবং নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ির মধ্যেই গোটা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকায় এসপিজির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর ছিল।
সমাজমাধ্যমে তাঁর সঞ্চালনার প্রশংসা ছড়িয়ে পড়লেও সেই উচ্ছ্বাস নিয়ে খানিক বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন মধুমন্তী। তাঁর মতে, বহু বছর ধরেই তিনি এই কাজ করছেন, কিন্তু আগে এমন প্রতিক্রিয়া খুব একটা পাননি। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রথম দিক থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত সঞ্চালনা করলেও পরে ধীরে ধীরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
মধুমন্তীর দাবি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হলেও পুরোপুরি কাজহীন ছিলেন না। বিশেষত ইংরেজি ভাষায় সঞ্চালনার প্রয়োজন হলে এখনও তাঁকে ডাকা হত। তবে ২০১০ সালের পর থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ধরণ বদলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর উপস্থিতিও কমতে থাকে।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাতারাতি নিজের ভাগ্য বদলে যাবে— এমন প্রত্যাশা তিনি করছেন না। একই সঙ্গে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, গত ১৫ বছর ধরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে দমিয়ে রাখা হয়েছে— এমন বক্তব্যের সঙ্গে তিনি পুরোপুরি একমত নন। বরং ‘প্রত্যাবর্তন’ শব্দটি ব্যবহার করাতেই তাঁর আপত্তি রয়েছে। তাঁর মতে, তিনি কখনও কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে ছিলেন না, শুধু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন না।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.