১৪ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার পালিত হবে মকর সংক্রান্তি। হিন্দু ধর্মে এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরে মোট ১২টি সংক্রান্তি থাকলেও, মকর সংক্রান্তির মাহাত্ম্য সবচেয়ে বেশি। কারণ এই দিন সূর্যদেব ধনু রাশি ত্যাগ করে মকর রাশিতে প্রবেশ করেন। জ্যোতিষ মতে, এই সূর্যগোচরের মাধ্যমে শুভ শক্তির সূচনা হয় এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
দেশের নানা প্রান্তে এই দিন ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে উৎসব পালিত হয়। কোথাও ঘুড়ি উৎসব, কোথাও আবার পুণ্যস্নান ও দান-পুণ্যের আয়োজন দেখা যায়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মকর সংক্রান্তির দিনে কিছু বিশেষ নিয়ম ও উপায় মেনে চললে জীবনের নানা সমস্যা দূর হয় এবং সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।
এই দিনে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য দেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ভোরবেলা স্নান সেরে গঙ্গাজলে লাল ফুল, লাল চন্দন ও আতপ চাল মিশিয়ে সূর্যের উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য নিবেদন করা উচিত। পাশাপাশি গঙ্গাজলে কালো তিল দিয়ে অর্ঘ্য দিলে বিশেষ ফল পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।
পৌষ সংক্রান্তির দিন ঘরে পুজো করার সময় ভগবানকে তিলের নাড়ু বা তিল দিয়ে তৈরি যে কোনও ভোগ নিবেদন করা খুবই শুভ। তিলকে শুদ্ধতা ও দানশীলতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এই পবিত্র তিথিতে কালো তিল খাওয়াও অত্যন্ত শুভ ফলদায়ক। সম্ভব হলে তিল দান করলে আরও ভালো ফল লাভ হয়।
মকর সংক্রান্তির দিন ঘরে শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই দিন নিরামিষ আহার গ্রহণ করলে মন ও শরীর পবিত্র থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়। সকালবেলা স্নান সেরে গরুকে রুটি ও গুড় খাওয়ানো হলে পুণ্যলাভ হয় এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।
এই দিনে অতিথি এলে তাঁকে কখনও খালি হাতে বা খালি মুখে ফেরানো উচিত নয়। সামান্য হলেও কিছু খাওয়ানো বা দান করা শুভ বলে মনে করা হয়। সব কাজে সাফল্য পেতে চিনি, মিছরি, আলু ও লঙ্কা দান করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।
জীবনের নানা বাধা কাটিয়ে উঠতে মকর সংক্রান্তির দিনে ঘি, চাল, ময়দা ও দই দান করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। এছাড়া সকালবেলা সারা বাড়িতে গঙ্গাজল ছেটালে নেগেটিভ শক্তি দূর হয় এবং ঘরে শুভ শক্তির প্রবাহ বাড়ে।
অনেকেই এই দিনে গঙ্গাস্নান করার চেষ্টা করেন। যাঁদের পক্ষে তা সম্ভব নয়, তাঁরা ঘরে স্নান সেরে মনে মনে গঙ্গাস্নানের সংকল্প করেও সাধ্যমতো দান করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, মকর সংক্রান্তি শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, দান-পুণ্য এবং নতুন সূচনার এক বিশেষ দিন। সঠিক নিয়ম ও বিশ্বাসের সঙ্গে এই দিনটি পালন করলে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করেন ধর্মবিশ্বাসীরা।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.