বলিউডের সত্তর-আশির দশকে অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। বাংলা সিনেমা থেকে হিন্দি ছবিতে এসে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের অভিনয় দক্ষতায় দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়-এর পুত্র জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে অল্প বয়সেই তাঁর বিয়ে হয়। এরপর প্রায় ঘটনাচক্রেই সিনেমার জগতে প্রবেশ করেন মৌসুমী।
১৯৭২ সালে পরিচালক শক্তি সামন্ত-এর ‘অনুরাগ’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি ছবিতে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। প্রথম ছবিতেই এক অন্ধ তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন অভিনেত্রী। এরপর একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয় করে বলিউডে নিজের জায়গা শক্ত করে নেন।
১৯৭৪ সালে ‘হামশাকাল’ ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁর পরিচয় আরও ঘনিষ্ঠ হয় তৎকালীন সুপারস্টার রাজেশ খান্না-র সঙ্গে। পর্দায় তাঁদের জুটি দর্শকদের পছন্দ হলেও বাস্তবে সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। এক সাক্ষাৎকারে মৌসুমী জানিয়েছিলেন, অতিরিক্ত জনপ্রিয়তা অনেক সময় রাজেশ খান্নার আচরণে প্রভাব ফেলত।
সেই সাক্ষাৎকারেই অভিনেত্রী একটি অস্বস্তিকর ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একবার তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং করছিলেন। সেই সময় রাজেশ খান্না মজা করে প্রশ্ন করেছিলেন, তাঁর সন্তানের বাবা কি অভিনেতা বিনোদ মেহরা? কারণ সেই সময় মৌসুমী ও বিনোদ মেহরাকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে নানা গুঞ্জন শোনা যেত। তাঁরা একসঙ্গে বহু ছবিতে কাজও করেছিলেন।
এই মন্তব্যে আহত হলেও চুপ থাকেননি মৌসুমী। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া-র সন্তান কি রাজেশ খান্নার, নাকি ঋষি কাপুর-এর? অভিনেত্রীর এই জবাব শুনে পরিস্থিতি মুহূর্তেই বদলে যায় বলে তিনি স্মৃতিচারণে জানান।
তবে সময়ের সঙ্গে পুরনো তিক্ততা ভুলে গিয়েছিলেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। জীবনের শেষদিকে অসুস্থ রাজেশ খান্নার সঙ্গেও দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, শেষ সময়ে রাজেশ তাঁর প্রশংসাও করেছিলেন এবং স্বীকার করেছিলেন যে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই মৌসুমীর স্পষ্টভাষী স্বভাবকে ভয় পেতেন।
২০১২ সালে প্রয়াত হন রাজেশ খান্না। জীবনের শেষ পর্বে তাঁর নিঃসঙ্গতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মৌসুমীর এক শব্দের প্রতিক্রিয়া ছিল— “কর্মফল”।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.