বারাসাতে নিপা আতঙ্ক: দুই নার্স আশঙ্কাজনক, ১২০ জন আইসোলেশনে

পশ্চিমবঙ্গে ফের নিপা ভাইরাস নিয়ে চরম উদ্বেগ ছড়াল। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV) পরীক্ষার মাধ্যমে এই সংক্রমণ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আক্রান্ত দু’জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আক্রান্তদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা নার্স রয়েছেন। বর্তমানে দু’জনকেই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে এবং ভেন্টিলেশনে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, মহিলা নার্স ইতিমধ্যেই কোমায় চলে গিয়েছেন। কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিধি মেনে চিকিৎসা চললেও রোগের তীব্রতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা।

প্রথমে কল্যাণীর এইমস-এ পরীক্ষায় নিপা পজিটিভ ধরা পড়ে। পরে নমুনা পুনরায় পরীক্ষার জন্য পুনেতে পাঠানো হলে NIV সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপরই রাজ্যজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ চেইন খুঁজে বের করতে তৎপর প্রশাসন।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা ১২০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স চালক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। সকলকেই হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও যাঁরা সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন, তাঁদের খোঁজে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, আক্রান্ত মহিলা নার্সকে অসুস্থতার আগে কাটোয়া ও বর্ধমানের একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছিল। সেই সূত্রে কাটোয়া থেকে ১০ জন (যার মধ্যে দু’জন চিকিৎসক) এবং বর্ধমান থেকে ৩৮ জন (যার মধ্যে আট জন চিকিৎসক) বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বর্ধমানের একটি হাসপাতালের এক হাউস স্টাফ চিকিৎসক, যিনি আক্রান্ত নার্সদের একজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁর হালকা জ্বরের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাঁকে পর্যবেক্ষণের জন্য কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সংক্রমণের উৎস এখনও স্পষ্ট নয়। স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সতর্কতা হিসেবে চিকিৎসকরা কাটা ফল ও খেজুরের রস খেতে নিষেধ করেছেন।

আক্রান্ত নার্সদের সাম্প্রতিক কোনও ভিনরাজ্য সফরের ইতিহাস নেই। তবে অসুস্থ হওয়ার আগে তাঁরা পূর্ব মেদিনীপুর ও কাটোয়ায় নিজেদের বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পাঠানো ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক