এই বছর ফাল্গুন পূর্ণিমা বা হোলিকা পূর্ণিমা পড়েছে ৩ মার্চ ২০২৬। পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে ২ মার্চ সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে এবং তা থাকবে ৩ মার্চ বিকেল পর্যন্ত। বসন্তের আগমন ও ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টি যেমন আনন্দের প্রতীক, তেমনই শাস্ত্রমতে এটি পিতৃপুরুষদের স্মরণ ও আরাধনার এক গুরুত্বপূর্ণ তিথি।
শাস্ত্র মতে, এই দিনে সঠিক নিয়মে পুজো ও দান করলে পিতৃপুরুষদের আশীর্বাদ লাভ হয়। পরিবারে সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জীবনে সমৃদ্ধি আসে।
স্নান ও সংকল্প
ফাল্গুন পূর্ণিমার ভোরে ঘুম থেকে উঠে পবিত্র স্নান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। সম্ভব হলে গঙ্গা বা অন্য কোনও পবিত্র নদীতে স্নান করা উত্তম। স্নানের সময় পিতৃপুরুষদের স্মরণ করে প্রার্থনা করলে তাঁদের আশীর্বাদ লাভ হয় বলে বিশ্বাস।
স্নানের পর সংকল্প গ্রহণ করে সারাদিন উপোস পালন করা যেতে পারে। রাত্রে চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে নিজের মনের ইচ্ছা শান্তভাবে ব্যক্ত করলে মানসিক প্রশান্তি লাভ হয়।
পিতৃদোষ নিবারণে দান
এই পূর্ণিমায় দান-ধ্যান বিশেষ ফলদায়ক। শাস্ত্র মতে, খাদ্য, বস্ত্র, ধান, দুধ বা অর্থ দান করলে পিতৃদোষের প্রভাব কমে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণ, গৃহশিক্ষক বা দুঃস্থ মানুষদের সাহায্য করলে পুণ্য বৃদ্ধি পায়।
দান শুধু ধর্মীয় কাজ নয়, এটি মানবিক কর্তব্যও—যার মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
চন্দ্রদেবের আরাধনা
পূর্ণিমার রাতে চাঁদের উদ্দেশ্যে জল ও দুধ মিশিয়ে অর্ঘ্য দেওয়ার বিধান রয়েছে। ‘শুভাং গযতেঃ চন্দ্রদেবায় নমঃ’ মন্ত্র উচ্চারণ করে অর্ঘ্য প্রদান করলে পিতৃপুরুষদের আত্মার সঙ্গে এক আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
চন্দ্রদেব মন ও আবেগের অধিপতি—তাঁর কৃপায় মানসিক শান্তি ও পারিবারিক স্থিতি বজায় থাকে।
মন্ত্র জপ ও ধ্যান
পিতৃপুরুষদের স্মরণে ‘ওঁ পিতৃর্ভ্যঃ সোহার্গ্যং’ মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত শুভ। পূর্ণিমা তিথিতে মন্ত্রজপের শক্তি অন্যান্য দিনের তুলনায় অধিক কার্যকর বলে মনে করা হয়।
শান্ত মনে ধ্যান করলে অন্তরের অশান্তি দূর হয় এবং পারিবারিক কল্যাণের পথ সুগম হয়।
আরও পড়ুন:Palmistry: লাগজারি বাড়ি, গাড়ির মালিক হবেন, জানতে পারবেন নিজের হাতের রেখা দেখে, রইলো উপায়
ঘর পরিষ্কার ও পবিত্রতা
পূর্ণিমার দিন ঘরদোর পরিষ্কার রাখা এবং দেব-দেবীর সামনে প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র পরিবেশ ইতিবাচক শক্তিকে আহ্বান করে এবং পরিবারে শান্তি ও সৌভাগ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
উপসংহার
ফাল্গুন পূর্ণিমা শুধুমাত্র উৎসবের দিন নয়, এটি পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও কৃতজ্ঞতা জানানোর পবিত্র সময়। স্নান, দান, মন্ত্রজপ ও চন্দ্রারাধনার মাধ্যমে জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি ও মানসিক শান্তি লাভের পথ সুগম হয়। শাস্ত্রসম্মত নিয়ম মেনে এই তিথি পালন করলে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয় এবং পিতৃপুরুষদের আশীর্বাদে জীবন হয়ে ওঠে আলোকিত।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.