১ জুন থেকে বাংলায় শুরু PM বিশ্বকর্মা যোজনা, কারিগরদের মিলবে প্রশিক্ষণ, ১৫ হাজার টাকা ও ৩ লক্ষ টাকার ঋণ

পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প ও হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট ও আধুনিক সুযোগের অভাবে পিছিয়ে থাকা দক্ষ কারিগরদের উন্নয়নের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা।

এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বহু ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষ সরাসরি সুবিধা পাবেন। তাঁতি, কুমোর, কামার, ছুতোর, রাজমিস্ত্রি, দর্জি, ভাস্কর ও চর্মকারদের মতো পেশাজীবীদের বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সরঞ্জামের অভাবে যাঁদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সমস্যা হচ্ছিল, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কী কী সুবিধা মিলবে?

আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ

প্রকল্পে নির্বাচিত আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে কারিগরদের আধুনিক কাজের কৌশল শেখানো হবে, যাতে তাঁরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের কাজ আরও উন্নত করতে পারেন।

প্রশিক্ষণ চলাকালীন আর্থিক সহায়তা

প্রশিক্ষণের সময় দৈনিক ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড দেওয়া হবে। এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে, যাতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় আয় বন্ধ হয়ে গেলেও আর্থিক সমস্যা না হয়।

১৫ হাজার টাকার টুলকিট সহায়তা

প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আধুনিক যন্ত্রপাতি বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য এককালীন ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই অর্থ কারিগরদের কাজের মান ও উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে।

সহজ শর্তে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ

প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা হল গ্যারান্টি ছাড়াই স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ। মোট দুই ধাপে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলতে পারে।

প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে, যার মেয়াদ থাকবে ১৮ মাস।

প্রথম ঋণ সময়মতো পরিশোধ করলে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়ার সুযোগ মিলবে। এই ঋণের মেয়াদ হবে ৩০ মাস।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

প্রথাগত হস্তশিল্প বা কারিগরি পেশার সঙ্গে যুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর আধার কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে।

আবেদন করার পদ্ধতি

অফলাইনে আবেদন

নিকটবর্তী CSC বা কমন সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে আবেদন করা যাবে। সেখানে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে ডিজিটাল পোর্টালে আবেদন জমা করা হবে।

অনলাইনে আবেদন

সরকারি পোর্টালে গিয়ে আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে লগইন করে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য, পেশার বিবরণ ও ব্যাংকের তথ্য জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর পাওয়া যাবে, যার মাধ্যমে পরে স্ট্যাটাস দেখা যাবে।

বাংলার কুটির শিল্পে নতুন সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। ছোট কারিগররা আধুনিক প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা পেলে তাঁদের ব্যবসা আরও বড় আকার নিতে পারবে। ফলে কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক