গরম পড়তেই অনেকেই মুখে ভারী ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার কমিয়ে দেন। অতিরিক্ত ঘাম, তৈলাক্ত ভাব এবং অস্বস্তির কারণে এই সময় হালকা ত্বকচর্চাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে মুখের ত্বকের সঙ্গে ঠোঁটের যত্নও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা অনেক সময় নজর এড়িয়ে যায়। ফলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়া, চামড়া ওঠা কিংবা জ্বালাভাবের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠোঁটের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি কোমল ও পাতলা। সেখানে প্রাকৃতিক তেল উৎপাদনের ব্যবস্থাও প্রায় নেই বললেই চলে। তাই আবহাওয়ার পরিবর্তন, শরীরে জলের অভাব বা রোদের প্রভাব খুব দ্রুত ঠোঁটে পড়ে। গরমের সময় কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই ঠোঁট নরম ও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব।
১) বার বার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো বন্ধ করুন

অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে ঠোঁট শুকিয়ে গেলে জিভ দিয়ে বার বার ভিজিয়ে নেওয়ার। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। লালা শুকিয়ে গেলে ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও কমে যায়। ফলে ঠোঁট আরও রুক্ষ ও ফাটা দেখায়।
২) পর্যাপ্ত জল পান অত্যন্ত জরুরি
গরমে শরীর থেকে দ্রুত জল বেরিয়ে যায়। শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হলে তার প্রভাব প্রথমেই ঠোঁটে দেখা দিতে পারে। তাই দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করা জরুরি। পাশাপাশি ফলের রস, ডাবের জল বা জলসমৃদ্ধ ফলও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
৩) রাতে হালকা ময়েশ্চার ব্যবহার করুন
ভারী ক্রিম ব্যবহার করতে অস্বস্তি হলে রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে সামান্য নারকেল তেল, ঘি বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে পারেন। এতে ঠোঁট দীর্ঘ সময় আর্দ্র থাকে এবং সকালে শুষ্কভাব অনেকটাই কম লাগে।
৪) সপ্তাহে এক-দু’দিন ঠোঁট এক্সফোলিয়েট করুন
ঠোঁটের উপর জমে থাকা মৃত চামড়া দূর করতে হালকা এক্সফোলিয়েশন উপকারী হতে পারে। সামান্য চিনি ও মধু মিশিয়ে খুব আলতো হাতে ঠোঁটে ম্যাসাজ করলে রুক্ষতা কমে। তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
৫) রোদ থেকে ঠোঁটকে সুরক্ষিত রাখুন
গরমের তীব্র রোদ শুধু ত্বক নয়, ঠোঁটেরও ক্ষতি করে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে ঠোঁট কালচে হয়ে যাওয়া বা শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। বাইরে বেরোলে ছাতা ব্যবহার করা, মুখ ঢেকে রাখা বা লিপ বাম ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।
গরমে ঠোঁটের যত্ন নিতে খুব বেশি প্রসাধনের প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিত কিছু সহজ অভ্যাসই ঠোঁটকে নরম, কোমল এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।