দার্জিলিং পাহাড়ে জলসংকট, পর্যটন পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে সোমবার একাধিক এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। সারাদিনের পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গঠিত ১৬টি জনজাতি বোর্ডের আর্থিক লেনদেন ও ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

দিনের শুরুতে মহাকাল মন্দিরে পুজো দেওয়ার মাধ্যমে পাহাড় সফর শুরু করেন মন্ত্রী। এরপর তিনি সিনচেল এলাকায় গিয়ে পানীয় জল সরবরাহ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, নির্মাণকাজের গতি এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। পাহাড়ের দীর্ঘস্থায়ী পানীয় জলের সমস্যার সমাধানে এই প্রকল্পের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

এরপর হ্যাপি ভ্যালি এলাকার একটি আইসিডিএস কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিশু ও মহিলাদের জন্য প্রদত্ত পরিষেবার মান সম্পর্কে খোঁজ নেন মন্ত্রী। কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও তিনি অবগত হন।

পরে মিরিক লেক এলাকায় পৌঁছে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন অগ্নিমিত্রা পাল। লেক সংলগ্ন অঞ্চলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটক পরিষেবা বৃদ্ধি এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

সফরের পরবর্তী পর্যায়ে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন পশুপতি মন্দির এলাকা পরিদর্শন করা হয়। এরপর দুধিয়ায় গিয়ে গত বছরের ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর পুনর্নির্মাণ কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। সেতুর কাজ এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যার বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেন, অতীতে পাহাড়ে একাধিক সফর হলেও উন্নয়নের গতি প্রত্যাশিত ছিল না। তাঁর দাবি, জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য গঠিত ১৬টি পৃথক বোর্ডে বরাদ্দ অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি বোর্ডের আর্থিক কর্মকাণ্ডের তদন্তও করা হতে পারে।
একইসঙ্গে তিনি জানান, সিনচেলে চলমান অমৃত প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন হলে পাহাড়ের পানীয় জলের সমস্যা অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মিরিকে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য ওয়াই-ফাই পরিষেবা চালুর উদ্যোগ এবং দুধিয়ার নতুন সেতুর নির্মাণ ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, গত বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের জন্য যে আর্থিক সহায়তা বকেয়া রয়েছে, তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দেওয়া হয়েছে। পাহাড় সফর শেষ করে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে জলপাইগুড়ির নামও উঠে এসেছে প্রশাসনিক সূত্রে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.