বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই চুল পড়া, খুশকি, রুক্ষতা বা নিষ্প্রভ চুলের সমস্যা বাড়ে। এই সময় দামি প্রসাধনী বা বিভিন্ন ধরনের ট্রিটমেন্টের দিকে ঝোঁকেন অনেকে। তবে পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকরের মতে, চুলের যত্নে শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং প্রাকৃতিক উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, বর্ষায় তিনটি সহজ অভ্যাস চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।
কুলত্থ কলাই রাখুন খাদ্যতালিকায়
কুলত্থ কলাই (Horse Gram) উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। এর পাশাপাশি এতে রয়েছে আয়রন, ক্যালশিয়াম এবং খাদ্যআঁশ। এই পুষ্টি উপাদান শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে চুলের গোড়া শক্ত রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

ঋজুতা দিবেকরের পরামর্শ অনুযায়ী, কুলত্থ কলাই সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেদ্ধ করতে হবে। এরপর রসুন ও কাঁচালঙ্কার সঙ্গে বেটে নিয়ে অল্প নুন দিয়ে ফুটিয়ে স্যুপ তৈরি করা যায়। শেষে জিরে ও রসুনের ফোড়ন দিলে স্বাদও বাড়ে। সপ্তাহে অন্তত এক দিন এই স্যুপ খাওয়া যেতে পারে।
সপ্তাহে এক দিন রিঠার জল ব্যবহার করুন
চুলে নিয়মিত নানা ধরনের রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু বা স্টাইলিং পণ্য ব্যবহারের ফলে অনেক সময় মাথার ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে। তাই সপ্তাহে এক দিন রিঠার জল দিয়ে মাথা ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রিঠা রাতে জলে ভিজিয়ে বা হালকা ফুটিয়ে রেখে ঠান্ডা করে সেই জল ব্যবহার করা যায়। এটি প্রাকৃতিক ক্লিনজারের মতো কাজ করতে পারে। রিঠায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং খুশকির সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
দেশি খেজুরও হতে পারে উপকারী
দেশি খেজুরে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ এবং পলিফেনল রয়েছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফল শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে। ঋজুতা দিবেকরের মতে, মানসিক চাপের কারণে চুল পড়ার প্রবণতা বাড়লে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে দেশি খেজুর খাওয়া উপকারী হতে পারে। যদিও চুল ঘন হওয়ার বিষয়টি ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হতে পারে এবং এ বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।
শুধু এই তিনটি উপায়ই যথেষ্ট?
চুল পড়ার কারণ সব সময় এক রকম নয়। পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন, থাইরয়েডের সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, সংক্রমণ বা বংশগত কারণেও চুল ঝরতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়লে বা মাথার নির্দিষ্ট অংশে টাক পড়তে শুরু করলে চিকিৎসক বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বর্ষায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জলপান, মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং প্রাকৃতিক উপাদানের সঠিক ব্যবহার—এই কয়েকটি অভ্যাস একসঙ্গে মেনে চললে চুলের যত্ন নেওয়া অনেকটাই সহজ হতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.